images

সারাদেশ

‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো না, বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানতেন’

জেলা প্রতিনিধি

০৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

‘আমার ছেলে সাঁতার জানতো না। বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানতেন। কিন্তু সে সময় কোনো শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। সকালে মাদরাসায় গিয়ে সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি পুকুরে ডুবে মারা গেছে। তাদের গাফিলতির কারণেই আমার সন্তান মারা গেছে।’

কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া মাদরাসা ছাত্র মারুফের মা তানিয়া খানম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পুকুরের পানিতে ডুবে মো. মারুফ (৮) নামের এক মাদরাসা ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, যথাযথ তদারকির অভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের মুন্সেফপাড়ার বডিংমাঠ এলাকার একটি পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মারুফ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন ও তানিয়া খানম দম্পতির সন্তান। তার বাবা সৌদি আরব প্রবাসী। বর্তমানে পরিবারটি শহরের মুন্সেফপাড়ার গোলাপ টাওয়ারের পঞ্চম তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। মারুফ মুন্সেফপাড়া এলাকার তাহমিদুল কোরআন সোলাইমানিয়া মাদরাসার হাফেজিয়া বিভাগের ছাত্র ছিল। সে ইতোমধ্যে পবিত্র কোরআনের তিন পারা মুখস্থ করেছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে মাদরাসার ৭-৮ জন ছাত্র প্রতিদিনের ন্যায় বডিংমাঠ পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসল শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় ফিরে এলেও মারুফ ফিরে আসেনি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মাদরাসার শিক্ষকরা পুকুর থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সাইফ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় শিক্ষার্থীরা গোসল করতে পুকুরে যায়। সবাই ফিরে এলেও মারুফ আসেনি। পরে তাকে পুকুর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা ছাত্রের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস