জেলা প্রতিনিধি
০৮ জুন ২০২৬, ১০:১৮ এএম
যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ছামিনা আক্তার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে স্বামী-স্ত্রী যশোর শহরের শেখহাটি তালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছামিনা ও সুজন সম্পর্কে মামাতো ভাই-বোন ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় অবস্থানকালে নেশার টাকার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সুজন নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ছামিনার মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ছামিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন ছামিনার কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/টিবি