images

সারাদেশ

মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

জেলা প্রতিনিধি

০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. জোবায়ের (১৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে তাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় মামলা করতে গেলে ঘুষ দাবি ও গড়িমসির অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।

রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় ঘন্টাখানেক তারা থানা চত্বর ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে তারা বিক্ষোভ থেকে সরে আসেন।

নিহত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ জুন ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তারা বন্দর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পুলিশের এই অসংবেদনশীল আচরণ এবং ঘটনার চার দিন পার হলেও অপরাধী গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার ফলে রোববার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে।

এর আগে, ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মো. জোবায়ের (১৮)।

তিনি পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার রিকশাচালক মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে এবং বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে পৌঁছালে তিন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী জোবায়েরের পথরোধ করে। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং তার সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে বন্দর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী থানায় এসেছিল। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে বিষয়টির যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আমার কথার ওপর আস্থা রেখে ফিরে গেছেন। আমরা সেই অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা করতে এসে ফিরে গেছে এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা না থাকায় তাকে অন্য একটি মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করলে ওই মামলায়ও তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি