জেলা প্রতিনিধি
০৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ এএম
হবিগঞ্জে সীমান্ত দিয়ে সম্ভাব্য ‘পুশইন’ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।
বিজিবি জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশইনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ১৬টি বিওপিতে (বর্ডার আউটপোস্ট) ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে বিজিবি মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়দের সতর্ক করছে। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পুশইন সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপ চিহ্নিতকরণ এবং তথ্য প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের প্রতিটি অংশে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাত্রিকালীন নিরাপত্তায় থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল এলাকার ভ্যানচালক মো. মজনু মিয়া বলেন, রাতে মাইকিং করে সতর্ক করার কারণে আমরা আরও সচেতন হয়েছি। বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন, এতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।
মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার চা শ্রমিক মোহন লাল বলেন, উঠান বৈঠকে বিজিবি আমাদের পুশইন বিষয়ে বিস্তারিত বুঝিয়েছে। কীভাবে সন্দেহজনক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে হয় এবং তথ্য দিতে হয়, তা আমরা জানতে পেরেছি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক সভা, সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহজনক অনুপ্রবেশ দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
/এএস