images

সারাদেশ

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে নাসিম ফারুক খান মিঠু

জেলা প্রতিনিধি

০৮ জুন ২০২৬, ১২:৩০ এএম

সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন এখনও অনেক দূরের বিষয়। এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি, রাজনৈতিক দলগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে মাঠের আলোচনা, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম— নাসিম ফারুক খান মিঠু।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি যদি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাসিম ফারুক খান মিঠুকে দলীয় মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি মেয়র পদে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন। অনেকের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও নির্দলীয় ভোটের একটি বড় অংশ তার পক্ষে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত দুটি পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। উভয়বারই তিনি অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী ছিলেন তাসকিন আহমেদ চিশতি। ফলে বিরোধী ভোট বিভক্ত হলেও জোটগত সুবিধা পেয়েছিলেন তিনি।

তবে এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে পৃথক অবস্থানে রয়েছে। ফলে পৌরসভা নির্বাচনেও দলটি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ অবস্থায় বিএনপির ভোটব্যাংক একদিকে এবং জামায়াতের ভোট অন্যদিকে বিভক্ত হলে বিএনপির জন্য এমন একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী প্রয়োজন হবে, যিনি সর্বস্তরের ভোটারের কাছে জনপ্রিয়। সেই বিবেচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠুর নামই সামনে চলে আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

বর্তমানে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর ভাষ্য, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হিসেবে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। এ কারণে দলের অভ্যন্তরেও তাকে প্রার্থী করার দাবি ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে।

ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন সফল সংগঠক ও উদ্যোক্তা হিসেবে মিঠু শহরে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে বা দুর্বল অবস্থানে থাকলে তাদের সমর্থকদের একটি অংশের ভোট মিঠুর দিকে যেতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তিনি তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন নেতা। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানবিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ফলে দলীয় পরিচয়ের বাইরে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবেও তার অবস্থান রয়েছে।

অপরদিকে, সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে নাসিম ফারুক খান মিঠু একটি পরিচিত মুখ। করোনাকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি এখনও অনেকের মুখে মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে মাসব্যাপী খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করেন। মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং পৌর রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হওয়ায় তিনি এখনও বিএনপির একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ের পর দলটি পৌরসভা নির্বাচন নিয়েও আত্মবিশ্বাসী। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াত নেতা মো. ওমর ফারুক। ফলে পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী কিংবা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, তিনি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

তার ভাষায়, “আমি মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। আমি এই শহরের সন্তান। দু’বার নির্বাচন করেছি। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও পৌরবাসী এখনও অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি সাতক্ষীরার মানুষ হিসেবে তাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। তবে নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনই সবকিছু নয়। যতদিন সুযোগ পাব, মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় অর্জন আমার কাছে আর কিছু নেই।”

সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ওমর ফারুক এবং ব্যবসায়ী নেতা নাসিম ফারুক খান মিঠুকে ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নাসিম ফারুক খান মিঠুকে দলীয় মনোনয়ন দেয় এবং তিনি দলীয় ভোটের পাশাপাশি নির্দলীয় ও আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের একটি অংশের ভোট আকর্ষণ করতে সক্ষম হন, তাহলে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র পদে তিনি শুধু শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীই নন, সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারেন।