images

সারাদেশ

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৩৬ ঘণ্টা পরও পুশইন জটিলতা, উত্তেজনা

জেলা প্রতিনিধি

০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার ১১ বাংলাদেশি নাগরিকের ভাগ্য এখনও অনিশ্চয়তায়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পতাকা বৈঠকের পরেও কোনো সমাধান মেলেনি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

রোববার (৭ জুন) বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও দুই দফা পতাকা বৈঠকের পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা, উদ্বেগ ও মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুশইন প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এরপর থেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

পুশইনের শিকারদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে একজন নারী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং একজন শিশু প্রতিবন্ধী। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমশই সংকটাপন্ন ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। 

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল সে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করার পর প্রায় ১২ দিন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয়। দ্রুত নিজের বাড়িতে ফিরতে চাইলেও এখন সে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন গুনছে।

13

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের জমির আইলে বসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে আশপাশের গ্রামবাসীরা শুকনো খাবার ও পানি পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসুস্থতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করেই বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হস্তান্তর করা হলে আমরা গ্রহণ করব। তবে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন গ্রহণ করা হবে না।

এদিকে, প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার নয়, এটি এখন একটি মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের নিরাপদ সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

/এএস