images

সারাদেশ

শূন্যরেখায় দুই দিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ১০ জন

জেলা প্রতিনিধি

০৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে থাকা তিন শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষের ভাগ্যে। কৃষিজমির মাঝখানে এক হাত চওড়া আইলে খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটছে তাদের। অনিশ্চয়তা, দুর্ভোগ ও মানবিক সংকটের মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় অপেক্ষা করছেন তারা।

panchagore_1

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তের ভারতীয় শূন্যরেখায় টানা দুই রাত ধরে অবস্থান করছেন এসব নারী, পুরুষ ও শিশু। 

তাদের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় আটকা পড়েন। এরপর থেকে ভারত তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না, আবার বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে পারছেন না।

panchagore_3

গতকাল শনিবার রাতটিও তাদের কাটাতে হয়েছে সরু একটি আইলের ওপর। কেউ বসে, কেউ কষ্ট করে শুয়ে ছিলেন। শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হয়েছে কাপড়ের ব্যাগ। সামান্য নড়াচড়া করলেই পা ডুবে যাচ্ছে জমির পানিতে। দিনের প্রখর রোদ আর রাতের বৃষ্টিতে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

panchagore_4

রোববার (৭ জুন) সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। দুই দিনের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক খাবার ও বিশ্রামের অভাবে সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

panchagore_5

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, দুই রাত হয়ে গেল। রোদ-বৃষ্টি সব সহ্য করছি। ঠিকমতো খাবার নেই, থাকার জায়গা নেই। আমরা শুধু চাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।

তাদের দাবি, তৃষ্ণা মেটাতে অনেক সময় আশপাশের জমিতে জমে থাকা পানিও পান করতে হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

panchagore_6

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মতে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অবস্থান যাই থাকুক না কেন, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের এভাবে দিনের পর দিন সীমান্তে ফেলে রাখা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

panchagore_7

হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে মানুষকে এভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই অনেক কষ্টে আছেন। বিষয়টির দ্রুত সমাধানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বড়বাড়ি প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা তজমল আলী বলেন, বিএসএফ যে কাজটি করেছে সেটি ঠিক হয়নি। যাদের পুশইন করা হয়েছে, তাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। মানুষগুলো অনেক কষ্টে আছে।

panchagore_8

নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি ৷ তাদের ভারতীয় সীমান্ত থেকে পার করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করছে। সীমান্তে আমাদের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এজে