images

সারাদেশ

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা না পেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

নেত্রকোণার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে দিলোয়ারা (৭০) নামে এক নারী মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে মারা যান তিনি। দিলোয়ারা উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের মৃত কাসুম আলীর স্ত্রী। 
 
রোগীর স্বজন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দিলোয়ারা আক্তার গত কয়েক দিন ধরে জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসার জন্য মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। পরে রোগী ভর্তি করে তিন তলায় ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। 
 
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। দিলোয়ারার ছেলেসহ অন্য স্বজনরা বার বার দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাছে যান। কিন্তু আসতেছি বলে দুই ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো ডাক্তার বা নার্স রোগীর চিকিৎসা দেননি। পরে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে তাড়াহুড়ো করে চিকিৎসক ও নার্সরা সেলাইন ও ওষুধ নিয়ে যান। 
 
এ ব্যাপারে দিলোয়ারা আক্তারের ছেলে রনি মিয়া বলেন, ‘ভর্তির হওয়ার দুই ঘন্টা ধরে ডাক্তার আর নার্সদের কাছে বার বার গেছি। কিন্তু ধমক দিয়া আমারে বলে যাও আইতাছি। এভাবে ৪/৫ বার গেছি। কিন্তু কেউ এসে আমার মাকে দেখছে না। মারা যাওয়ার পর ডাক্তার আর নার্স আইছে সেলাইন লাগাইতো। তারা চিকিৎসা না দিয়া আমার মাকে মাইরা ফালাইছে। আমি এর বিচার চাই।’
 
দিলোয়ারা আক্তারের পাশের সিটে ভর্তি থাকা রোগী মাহিন মিয়া জানান, ‘আমার পাশের সিটে রোগীটা ভর্তি হওয়ার পর স্বজনরা বার বার বাইরে গেছে ডাক্তার আর নার্স আনতে। কিন্তু ডাক্তার বা নার্সরা কী বলেছে সেটা তো জানি না। তবে রোগী মারা যাওয়ার পর ডাক্তার আসছে।’ 
 
এ ব্যাপারে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার নাসরিন সুলতানা প্রীতি বলেন, ‘রোগী যখন ভর্তি করেছে তখন চিকিৎসাপত্রে ওষুধ লিখে ভর্তি দিয়েছি। পরে যখন স্বজনরা আসছে তখন গিয়ে দেখি রোগী মারা গেছে।’ 
 
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নূরুল হুদা খান বলেন, ‘উল্লেখিত সময়ে যারা দায়িত্বপালন করছে তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখছি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানালে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 


নেত্রকোনা সিভিল সার্জন গোলাম মওলা মুঠোফোনে বলেন, ‘মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মনোয়ার নামের একজন রোগী মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। চিকিৎসায় যদি কোন ধরনের অবহেলা থাকে তাহলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

প্রতিনিধি/ক.ম/