জেলা প্রতিনিধি
০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে এখনও বাকি বেশ কিছুদিন। কিন্তু প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা আর আবেগ প্রকাশে যেন অপেক্ষা করতে নারাজ আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা। নীল-সাদা পতাকা, প্রিয় দলের জার্সি আর উচ্ছ্বসিত স্লোগানে শনিবার বিকেলে মুখর হয়ে ওঠে শরীয়তপুর শহর। কয়েকশ সমর্থকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আর্জেন্টিনা ভক্তদের এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। শতাধিক মোটরসাইকেল ও ট্রাকের বহর নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এটি পুনরায় উপজেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পতাকায় সজ্জিত মোটরসাইকেল ও ট্রাকের দীর্ঘ বহর শহরের বিভিন্ন সড়কে দৃষ্টি কাড়ে সাধারণ মানুষের। সমর্থকদের কণ্ঠে ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’ ধ্বনি আর উচ্ছ্বাসে সরব হয়ে ওঠে চারপাশ। অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি পরে অংশ নেন শোভাযাত্রায়। কারও হাতে বাংলাদেশের পতাকা, কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা—দুই দেশের পতাকার সম্মিলিত উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও রঙিন করে তোলে।

শুধু তরুণরাই নন, শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেককে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই আনন্দযাত্রায় অংশ নিতে দেখা যায়। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ বাবার মোটরসাইকেলের সামনে বসে পতাকা উড়িয়েছে, কেউ আবার ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছে।
দুই শিশুপুত্র সাদমান সাদ ও রাফসান সাদকে সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। সেই ভালোবাসা এখনও আছে। আজ সন্তানদের নিয়ে এই আনন্দের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। ফুটবল আমাদের কাছে শুধু খেলা নয়, আবেগেরও নাম।
শিশু কন্যা নুসবা ও ভাতিজা আয়াসকে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া শাওন কোতোয়াল বলেন, ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার আনন্দ আলাদা। ছোটদের মধ্যেও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।

শোভাযাত্রা দেখতে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। পথচারী ও দর্শনার্থীদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সমর্থক ও শোভাযাত্রার আয়োজক সুজন মোল্লা বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেছি। শরীয়তপুর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে সমর্থকেরা অংশ নিয়েছেন। কয়েকশ মোটরসাইকেল ও ট্রাক নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। সমর্থকদের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও জানান, আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশের পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্বকাপের এখনও অনেকটা সময় বাকি থাকলেও শরীয়তপুরের এ আয়োজন যেন প্রমাণ করে দিয়েছে— ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের প্রয়োজন হয় না। আবেগ, উচ্ছ্বাস আর সমর্থনের ভাষা তারা খুঁজে নেয় নিজেদের মতো করেই।
প্রতিনিধি/এসএস