জেলা প্রতিনিধি
০৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
কক্সবাজারের মহেশখালীতে উপকূলীয় প্যারাবন বা বাদাবনে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গার পশ্চিমাংশে প্রায় কয়েকশ’ একর প্যারাবন পুড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণে বনভূমি ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্যারাবন কেটে সরকারি খাসজমি দখল করে চিংড়িঘের নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় আমির হোসেনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সিন্ডিকেট বন বিভাগ ও প্রশাসনকে প্রভাবিত করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এ ছাড়া আয়াত উল্লাহ, তারেক ও ফরিদের নেতৃত্বে আরও কয়েকটি স্থানে প্যারাবন নিধন করে চিংড়িঘের তৈরির প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মহেশখালীর প্যারাবনখেকো দুষ্কৃতকারীরা প্যারাবনে আগুন দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি চক্র দ্বীপের সুরক্ষা বেষ্টনীর অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়িঘের নির্মাণ করছে। অথচ যেখানে প্যারাবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার আশপাশেই বন বিভাগের দুটি বিট কার্যালয় রয়েছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশের কারণেই এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই প্যারাবনে আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। রাতের বিভিন্ন সময়ে বনাঞ্চলের কিছু অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, চিংড়িঘের নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্যারাবনের বাইনগাছ কেটে তা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে কাটা গাছে কেরোসিন ঢেলে বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করলে সংবাদকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারায় ঘটনাস্থলের বিভিন্ন প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং কোনো সাংবাদিককে প্যারাবনের কাছাকাছি যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হাকিম বলেন, মহেশখালীর উপকূলীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত প্যারাবন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে গোরকঘাটা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেন বলেন, প্যারাবনে আগুন দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কক্সবাজারের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সোচ্চার হতে হবে। ধ্বংস হওয়া প্যারাবন পুনরুদ্ধারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দুষ্কৃতকারীরা প্রকাশ্যে প্যারাবনে আগুন দিয়ে পরিবেশ দিবস পালন করেছে। এটি শুধু আমাদের নয়, প্রশাসনের জন্যও লজ্জাজনক।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, প্যারাবন নিধনকারীদের বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটিরও খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফএ