জেলা প্রতিনিধি
০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
মুহাম্মদ শরীফ বিল্লাহ (৪৬)। তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সম্প্রতি একটি ইমাম প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষিতে সফলতার মুখ দেখছেন।
শরীফ বিল্লাহ পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামের মৃত্যু মাওলানা তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তিনি একই এলাকার বায়তুল হামদ জামে মসজিদে ইমামতি করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামে প্রায় ৫ কাঠা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির শাক ও সবজির চাষ করা হচ্ছে। এতে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন শরীফের ভাই আরিফ বিল্লাহ। চাষের মধ্যে রয়েছে, পুঁই শাক, লাউ, ঢ্যাঁড়স, করলা, মিষ্টি কুমার, বরবটি, পেঁপেসহ ইত্যাদি।
এছাড়া আরও ৫ কাঠা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছে এবং মাছগুলোকে নিয়মিত খাবার সরবরাহ করাসহ ডিজিটাল মেশিন দিয়ে পানির পিএইস ভ্যালু পরীক্ষা করা হয়। এছাড়াও পালন করছেন, গরু ও মুরগি।

আব্দুল কুদ্দুস খান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শরীফ বিল্লাহ খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো দেখে এলাকার মানুষও উদ্ভব হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সবাই লাভবান হবে।
স্থানীয় কৃষক ফজলু ব্যাপারী বলেন, আমাদেরকে শরীফ বিল্লাহ ভাই কৃষি উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করে। সে যে কাজ শুরু করছে এতে অনেক লাভবান হবে। তাকে দেখে আমরাও এসব উন্নত পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করছি এবং এগুলো কৃষিকাজে ব্যবহার করছি।
মোশাররফ ব্যাপারী নামে আরেক কৃষক জানান, আমরা কৃষিতে উন্নত পদ্ধতিগুলো আগে জানতাম না। এখন এসব বিষয় জানতে পারছি তাকে দেখে, এ পদ্ধতিগুলো খুবই ভালো। এছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতিও তার কাছ থেকে শিখতে পারছি। এতে আমরা অনেক লাভবান হব।

শরীফ বিল্লাহ বলেন, আমি পত্রিকায় একজন ইমামের সফলতার গল্প পড়েছি। এরপর থেকে আমিও এই কাজে উদ্বুদ্ধ হই। আমি এটা পরীক্ষামূলক করেছি, তবে এর মধ্যেই সফলতা পাচ্ছি। কৃষি ঋণ পেলে কাজের পরিধি আরও বাড়াতে পারব এবং পুরোপুরি সফল হতে পারব বলে আসা করছি। এছাড়া এলাকার কৃষক ও যুবকদেরও এসব বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। তারা অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন।
জিয়ানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল চাষ হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনা ও বীজ সহায়তার আওতায় প্রায় ১ হাজারের মতো প্রান্তিক কৃষক সরাসরি সহায়তা পেয়ে থাকেন। শরিফ বিল্লাহকে আমরা একটা কৃষি ট্রেনিং দিয়েছি এবং তাকে কৃষি প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের কাছ থেকে সে নিয়মিত পরামর্শ নিয়ে থাকে। শরিফ বিল্লাহ এভাবে এগিয়ে গেলে আমাদের সব ধরনের সহায়তা পাবে।

এর আগে গত বছরের ২৫ সালের ১২ জুন থেকে জুলাই মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করে ১০৩ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। এছাড়াও ফাউন্ডেশনের অধীনে একটি সহজ কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করেন।
প্রতিনিধি/এসএস