০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
মাদারীপুরে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চালু হচ্ছে না কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার আইসিইউ সেবা। ফলে অলস পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। আইসিইউর সেবা না পাওয়ায় মুমুর্ষূ রোগীদের ঠেলে পাঠানো হয় ফরিদপুর কিংবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে খরচের সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জনবল ঘাটতি থাকায় চালু করা যাচ্ছে না এই আইসিইউর সেবা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার তালতলা এলাকার বাসিন্দা সাহিদা বেগম। ছয় মাসের সন্তান ফাহিমকে ভর্তি করেন ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। হামে আক্রান্ত ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। স্বামী ফরিদ চৌকিদার রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। অর্থাভাবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে পারছে না ফাহিমের বাবা-মা।
একই অবস্থা এখানে সেবা নিতে আসা অধিকাংশ মুমুর্ষূ রোগীর। অথচ জেলার সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। কেনা হয় তিন কোটি টাকার আইসিইউসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। রোগীদের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধনও করা হয় ইউনিটটি। অথচ আজও মিলছে না সেবা।
মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে যখন বেঁচে থাকার সক্ষমতা হারায় তখন প্রয়োজন হয় আইসিইউর। লাইফসাপোর্ট দিয়ে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার এসব যন্ত্রপাতি সারি সারিভাবে সাজানো থাকলেও ২৪ ঘণ্টাই বন্ধ থাকে হাসপাতালের সপ্তম তলায় আইসিইউর জন্য নির্ধারিত কক্ষটি। এতে ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ২৬৭ পদের মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। শিশু কিংবা বৃদ্ধ, মুমূর্ষ যেকোন রোগীর জন্য আইসিইউ সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে প্রতিনিয়তই বাড়ে রোগী, তবে কেন এই আইসিইউ সেবা চালু হচ্ছে না সেটিই এখন বড়প্রশ্ন।
সাহিদা বেগম বলেন, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই এতোবড় ভবনে আইসিইউ সেবা চালু হচ্ছে না। আমরা গরীব অসহায় মানুষ। কী করে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাবো, চাই সরকার দ্রুত এই হাসপাতালে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা সেবা চালু করুক। তাহলে আমাদের মতো মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।
সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকা থেকে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে এখানকার চিকিৎসক। ঢাকায় যাওয়া-আসা একদিকে ভোগান্তি আর কষ্ট। এ কারণে চিকিৎসা খরচ অনেক ব্যয়বহুল। তাই বাধ্য হয়েই মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালেই ছেলেকে ভর্তি রেখেছি। কী করবো, আমাদের মতো মানুষের প্রাইভেট ক্লিনিকে সেবা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’
‘নিরাপদ চিকিৎসা চাই’ সংগঠনের মাদারীপুর জেলার শাখার সভাপতি মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, ‘মানুষকে দেখানোর জন্য সাত তলার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু আধুনিক মানের কোনো সেবাই নেই। নেই ভালো মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাহলে কেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই ভবন নির্মাণ করা হলো? আর আইসিইউ সেবা কেন চালু হচ্ছে না সেটা মাদারীপুর জেলাবাসী জানতে চায়।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়তই চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটি চালু করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই শিগগিরই আইসিইউর সেবা চালু হবে বলে আশা করছি।’
ক.ম/