জেলা প্রতিনিধি
০৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে আবারও বাস ডুবির দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বাসটি পন্টুনে ওঠার আগেই সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এস বি পরিবহন’—এর একটি যাত্রীবাহী বাস সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে এসে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার প্রস্তুতির সময় বাসটি হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে ছিটকে তীব্র স্রোতের পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়।
বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও ঘাট শ্রমিকরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। বাসের চালক এবং তার সহযোগীদের (হেলপার ও সুপারভাইজার) স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস বি পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৭ নম্বর ঘাট থেকে নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত, পন্টুনে পৌঁছানোর আগেই বাসের সব যাত্রী নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো যাত্রী বাসের ভেতর ছিলেন না।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিল না বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহায়তায় চালক ও তার সহকারীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের যৌথ দল নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলার জন্য উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও দ্রুত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পন্টুন থেকে বারবার এভাবে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মাত্র দুই মাস আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের আরেকটি বাস নদীতে পড়ে গিয়েছিল, যাতে ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন। একের পর এক এমন দুর্ঘটনার জন্য ঘাটের পন্টুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। ফেরিঘাটে যানবাহনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঘাট ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিধি/ এজে