জেলা প্রতিনিধি
০৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
টানা পাঁচ দিন ধরে তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা। তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ। গত পাঁচ দিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে।
সকাল থেকেই প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং মাঠে কর্মরত কৃষিশ্রমিকেরা। তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে কেউ ছাতা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান বলেন, সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদ। রাস্তায় বেশিক্ষণ থাকা যাচ্ছে না। গরমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু সংসারের তাগিদে কাজ করতেই হচ্ছে। যাত্রীও আগের তুলনায় কম, ফলে আয় কমে গেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক টিপন আলী বলেন, মাঠে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। তীব্র গরমে ফসলেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি হলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।
নতুন বাজার এলাকার পথচারী কামরুল জনি বলেন, ঘর থেকে বের হলেই গরমের তীব্রতা টের পাওয়া যাচ্ছে। রাস্তায় হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছি না। গরমে ছোট শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। অন্যদিকে গরমের তীব্রতায় ঠান্ডা পানীয়, ডাবের পানি ও আখের রসের চাহিদা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় তাঁদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এদিকে তাপদাহে মানুষের কষ্ট লাঘবে জেলার কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শরবত বিতরণ করছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, জেলায় পাঁচ দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামীকাল থেকে দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে মানুষ স্বস্তি পেতে পারেন।
প্রতিনিধি/এআর