images

সারাদেশ

বগুড়ায় লাইসেন্স ও ডাক্তার ছাড়াই চলছিল ক্লিনিক, পরিচালকের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি

০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ এএম

বগুড়ায় বৈধ লাইসেন্স, চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে একতা ক্লিনিক নামের এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে শহরের মফিজ পাগলা মোড় এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

এসময় একতা ক্লিনিকে নানা অনিয়মের অভিযোগে ক্লিনিকের পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা গেছে, কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হলেও মূলত ম্যানেজার ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন আনোয়ার হোসেন নিজেই। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ওই ক্লিনিকে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

পরিদর্শনকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। এমনকি অভিযানের সময় ক্লিনিকে কোনো ডিউটি ডাক্তার বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স উপস্থিত ছিলেন না। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই চলছিল রোগীদের চিকিৎসা। এছাড়া ক্লিনিকের ভেতরে সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে মজুত ও ব্যবহার করার প্রমাণও পাওয়া যায়।

এসব অপরাধের প্রমাণ মেলায় পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় ক্লিনিক থেকে অবৈধভাবে রাখা সব সরকারি ওষুধ জব্দ করা হয়।

বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজ্জাদ-উল-হক বলেন, ক্লিনিকে পাওয়া সরকারি ওষুধগুলো জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে এই অবৈধ ক্লিনিকে এসে যেসব চিকিৎসক অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেছেন, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন তারা এমন কোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা না দেন।

জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন থাকা রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অপর এক পরিচালকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

প্রতিনিধি/টিবি