images

সারাদেশ

মানিকগঞ্জে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

০৩ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

মানিকগঞ্জে ভাবি ও শিশু ভাতিজাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর মো. ইউসূফ মোল্লা (৪২) ও তার ভাগিনা সুমন হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করেছে জেলার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।    

বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সুপারের অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, মো. ইউসূফ মোল্লা, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান মোল্লার ছেলে। একই গ্রামের পিন্টু মিয়ার ছেলে মো. সুমন হোসেন। ইউসূফ মোল্লার আপন ছোট বোনের ছেলে সুমন হোসেন সম্পর্কে তারা মামা ভাগিনা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আসামি মো. ইউসূফ মোল্লা তার আপন বড় ভাই সালাম মোল্লার (৪৮) স্ত্রী আমেনা খাতুন (৩২) ও তার ১৫ মাস বয়সি ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে শিকার করেছেন। 

এই হত্যাকাণ্ডে ইউসূফকে সহযোগিতা করেছেন তার দুই ভাগিনা মো. সুমন হোসেন ও সবুজ (২০)। ইতোমধ্যে সুমনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারলেও সবুজ এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আসামি ইউসূফ মোল্লা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তারা ৫ ভাই ২ বোন। সবাই ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গাই থাকেন। বাড়িতে বড় ভাই সালাম মোল্লা তার স্ত্রী ও শিশু ছেলেকে নিয়ে থাকেন। মাঝে মধ্যে আমার ভাই, বোন ও ভাগিনারা বেড়াতে আসতো বাড়িতে। এ সময় (সালাম মোল্লার স্ত্রী) ভাবি তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতো। ভাইও ভাবির কথা শুনতো। 

ঈদের সময় আমার আরেক বড় ভাই সাভার থেকে বাড়িতে আসছিলেন। সেই ভাইয়ের সঙ্গেও ভাবি খারাপ আচরণ করেন। সে কারণে ভাই পাশের বাড়িতে রাত কাটিয়ে পরে চলে যান। এছাড়াও গ্রামের আমাদের একটি কাপড়ের দোকান ছিলো। সেই দোকান করতো সালাম ভাই। দোকান থেকেও আমাদের কোনো কিছুই দিতো না। একাই সব ভোগ করতো সে। এই সব কারণে রাগে-ক্ষোভে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ইউসূফ মোল্লা।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩০ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মানিকগঞ্জে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় ইউসূফ মোল্লা। 

এ ঘটনায় গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানায় ইউসূফ মোল্লাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহত আমেনা খাতুন মা মিনা খাতুন। পরে পুলিশ এই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারেন ইউসূফের দুই ভাগীনাও এই হত্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

প্রতিনিধি/এআরএম