images

সারাদেশ

মহাস্থানগড়ের মাজারের দানবাক্সে তিন মাসে জমা ৩৪ লাখ টাকা

জেলা প্রতিনিধি

০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ঐতিহ্যবাহী শাহ সুলতান বলখী (র.) এর মাজারের ১৫টি দানবাক্স মাত্র তিন মাসে জমা পড়েছে সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন  বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। 

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। 

মাজার কমিটির লোকজন ছাড়াও ২৫ জন স্কুলশিক্ষার্থীর সহায়তায় গণনা শুরু করা হয়। প্রথম দিনের গণনা শেষ না হওয়ায় বুধবার সকালে আবার গণনা শুরু করা হয়। বিকেলে গণনা শেষে মোট নগদঅর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

মহাস্থানগড় মাজার কমিটির সদস্যরা বলেন, এবার দানবাক্সের সংখ্যা বেশি থাকায় আগেরবারের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গণনা শেষে নগদ অর্থ মাজারের হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য অগ্রণী ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

দানবাক্স গণনার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া তাদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এমন কাজে দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে এ অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে তারা মনে করেন।

মহাস্থানগড়ে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তারাই এসব অর্থ দানবাক্সে ফেলে রাখেন।

টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল বলেন, দুই দিন ধরে ১৫টি দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছে। এ কাজে ২৫ জন শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছে। এবার মোট প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে টাকাগুলো মাজারের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রায় তিন মাস আগে খোলা পাঁচটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তবে বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বার্ষিক ওরস মাহফিল থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় মহাস্থান গড়ে। এ কারণে এবার দান বাক্স গুলোতে টাকার পরিমাণ বেশি ছিল।

প্রতিনিধি/এআরএম