জেলা প্রতিনিধি
০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফাহিম ওরফে সোহাগ (২০) নামের এক অটোরিকশা চালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাসপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সোহাগ বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের সাকির আহম্মদের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাসপাড়ার ৫২০/১১ নম্বর বাসায় বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী ইভা আক্তার বর্তমানে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত রমজানের ঈদের পর থেকে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকেই সোহাগ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কোরবানির ঈদের দিন তিনি গ্রামের বাড়িতে গেলেও একই দিন বিকেলে আবার শহরের বাসায় ফিরে আসেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। দীর্ঘ সময় ধরে বাসার দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে ঝুলন্ত গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ মে থেকে ২ জুনের মধ্যে কোনো এক সময় ঘরে একা থাকা অবস্থায় সিলিং ফ্যানের রডের সঙ্গে রশি বেঁধে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিহতের চাচা ফয়েজ আহম্মদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ চলছিল। মানসিক চাপে পড়ে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
প্রতিনিধি/এসএস