জেলা প্রতিনিধি
০৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
বাহুবল উপজেলার কচুয়াদি গ্রামে অসময়ে তিন রঙের তরমুজ চাষ করে তাক লাগালেন কৃষক রিপন মিয়া। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে তিনি যে সফলতা অর্জন করেছেন, তা এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রিপনের ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের গ্রামের কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশের প্রায় ৩০ শতক জমিতে মাচা পদ্ধতিতে দৃষ্টিনন্দনভাবে ঝুলছে শত শত তরমুজ। গাছের ডগায় ডগায় সবুজ, ডোরাকাটা ও ভিন্ন আকৃতির তরমুজ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। অসময়ে এমন চাষাবাদ হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
কৃষক রিপন মিয়া জানান, সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি এ তরমুজ চাষ শুরু করেন। কচুয়াদি গ্রামে এই প্রথম তিনি বীজ পাতা কোম্পানির সূর্য ডিম, কিং সুপার ও রবি জাতের তিন রঙের তরমুজ আবাদ করেছেন।

শুরুতে অনেকেই রিপনকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন বলে জানান। তবে নিজের আত্মবিশ্বাস ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীমের সহযোগিতায় তিনি চাষাবাদ চালিয়ে যান।
রিপন বলেন, ‘আমি নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই অসময়ে তরমুজ চাষ শুরু করি। প্রথমে ভয় ছিল, ফলন কেমন হবে। কিন্তু এখন ক্ষেতের অবস্থা দেখে খুব ভালো লাগছে। ফলন ভালো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মালচিং পেপার প্রযুক্তি ব্যবহার করায় জমিতে আগাছা জন্মায়নি এবং মাটির আর্দ্রতা ঠিক থাকায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এতে শ্রম ও সেচ খরচও কমেছে। জমিতে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক। ফলে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ, যা পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার একটি অংশ।
রিপন বলেন, আমি চেষ্টা করেছি নিরাপদ ও বিষমুক্ত তরমুজ উৎপাদন করতে। এজন্য রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছি। পুরো চাষাবাদে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
ইতোমধ্যে ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলন ও বাজারমূল্য ঠিক থাকলে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪০০ গাছে এক হাজারেরও বেশি তরমুজ ধরেছে। প্রতিটি গাছেই একাধিক তরমুজ ঝুলছে। ক্ষেতজুড়ে নানা রঙের তরমুজের সমারোহ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে এই এলাকায় কেউ অসময়ে এভাবে তরমুজ চাষের সাহস করেননি। রিপন মিয়ার সফলতা দেখে এখন অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে আগামী মৌসুমে তরমুজ চাষের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, রিপন মিয়া একজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী কৃষক। তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তিনি অসময়ে তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মালচিং পেপার, জৈব সার ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের কারণে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে নিরাপদ ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। রিপন মিয়ার সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও উচ্চমূল্যের ফসল আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকলে বাহুবল উপজেলায় কৃষিক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি আসবে। কৃষকরা নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হবেন এবং উচ্চমূল্যের ফসল আবাদ বৃদ্ধি পাবে।
এএইচ