জেলা প্রতিনিধি
০৩ জুন ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় গভীর রাতে বাল্যবিয়ের আয়োজন পণ্ড করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দ বনগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে সহযোগিতা করে কুমারখালী থানা পুলিশ।
জানা গেছে, দশম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে কাজীর জন্য অপেক্ষা করছিল বরযাত্রীরা। এ সময় আকস্মিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন ইউএনও। পরে বাল্যবিয়ের আসরটি পণ্ড করে দেওয়া হয়। এ সময় অভিভাবক ও বরযাত্রীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে মৌখিক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি কুমারখালী ফাজিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর ছেলেটি একই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ে না দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অভিভাবকরা বিয়ের আয়োজন করেন। তবে কাজী উপস্থিত হওয়ার আগেই প্রশাসনের অভিযান শুরু হলে বিয়ের আয়োজন পণ্ড হয়ে যায়।
ছাত্রীর বাবা বলেন, একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে আত্মহত্যার হুমকির কারণে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত আর বিয়ে দেওয়া হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন পণ্ড করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে এবং ছেলে-মেয়েকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।
প্রতিনিধি/এএস