images

সারাদেশ

সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা অবহেলায় কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তাহসিন (১৩) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় কোনো অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

নিহত তাহসিন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা গ্রামের মান্নানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি নারকেল গাছে উঠতে গিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় তাহসিন। পরে তাকে দুপুর দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘ সময় দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে পাওয়া যায়নি। পরে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সরকার এসে তাহসিনকে পরীক্ষা করে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলেও রিপোর্ট পেতে রাত ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

পরিবারের দাবি, রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক তাদের জানান, তাহসিনের লাঞ্চ (ফুসফুস) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ হাসপাতালে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাহসিন মারা যায়।

11

নিহতের স্বজনেরা আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে থাকাকালে তাহসিন শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। কিন্তু তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধাও সেখানে ছিল না।

তারা আরও দাবি করেন, অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ সময় চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা ট্রমা সেন্টারের মালিক ডা. হাফিজ উল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে হাসপাতালের ম্যানেজার জনি প্রথমে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান। পরে তাহসিনের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়নি। রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

প্রতিনিধি/এএস