images

সারাদেশ

দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচু বেচাকেনা, কোটি টাকার স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি

০২ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

লাল টুকটুকে পাকা লিচুর ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হচ্ছে লিচু সংগ্রহের ব্যস্ততা, আর সন্ধ্যা গড়ালেও থামছে না বেচাকেনার কোলাহল। দেশের ‘লিচুর রাজধানী’ খ্যাত দিনাজপুরে এখন চলছে মধুমাসের উৎসব। বাগান থেকে বাজার সবখানেই জমে উঠেছে রসালো বেদানা, মাদ্রাজি ও চায়না-৩ জাতের লিচুর বেচাকেনা। উন্নতমানের এই লিচুর চাহিদায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন পাইকাররা। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামে খুশি চাষিরা।

জেলার বিভিন্ন লিচুবাগানে এখন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা গাছ থেকে লিচু পেড়ে ৫০টি করে একসঙ্গে বেঁধে আঁটি তৈরি করছেন। কেউ আঁটি গুছিয়ে ঝুড়িতে রাখছেন, কেউ আবার দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য প্যাকেটজাত করছেন। প্রতিটি বাগান যেন মৌসুমি কর্মসংস্থানের এক প্রাণবন্ত কেন্দ্র।

b0368e89-8eef-4f82-b570-9ee4a1c68e08

দিনাজপুরের কালিতলা, পুলহাট, সিকদারহাট, মহব্বতপুর, উলিপুর, মাসিমপুর ও আউলিয়াপুর এলাকায় এখন জমে উঠেছে লিচুর পাইকারি ও খুচরা বাজার। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা বাগান ও আড়ত থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে জেলার বাজারগুলো দেশের অন্যতম বড় ফল বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে কালিতলা নিউমার্কেট ও পুলহাটের পাইকারি বাজারে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে মুখর চারপাশ। কোথাও চলছে দরদাম, কোথাও ট্রাকে তোলা হচ্ছে লিচুভর্তি ঝুড়ি। অনেক ক্রেতা আবার লিচুর স্বাদ পরীক্ষা করে পছন্দের জাত বেছে নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার সিকদার গ্রামের বাগান মালিক মকসেদ আলী বলেন, দিনাজপুরের লিচুর সুনাম দেশজুড়ে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লিচু কিনছেন। যত্নসহকারে সংগ্রহ করে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছি।

100acaee-c1da-4cae-ae09-adc4f5213be3

মহব্বতপুর এলাকার লিচু চাষি মো. আব্দুল হান্নান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দরও সন্তোষজনক। অনেক লিচু বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আশা করছি মৌসুম শেষে ভালো লাভ হবে।

বর্তমানে বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। তবে বোম্বাই, কাঁঠালি, হারিয়া, মোজাফফরি ও চায়না-২ জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। যদিও বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় অনেক চাষি আগাম লিচু সংগ্রহ শুরু করেছেন।

কালিতলা নিউমার্কেটে প্রতি ১০০টি মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা লিচু ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চায়না-৩ লিচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং চায়না-৪ লিচু ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

e8fc3bf0-fd08-4827-95a7-493c2352b67f

ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের চাহিদা থাকায় বাজারে দাম ভালো রয়েছে।

লিচুর আড়তদার ও ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বলেন, দিনাজপুরে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। ফলে মৌসুমজুড়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ফলের বাজারে পরিণত হয় এই জেলা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আফজল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৯৫৫ মেট্রিক টন। উৎপাদন ও বাজারদর অনুকূলে থাকায় এবার লিচু বিক্রি থেকে জেলার চাষিরা ৮০০ থেকে ১০৬৫ কোটি টাকার আয় করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এসএস