জেলা প্রতিনিধি
০২ জুন ২০২৬, ০৮:০১ এএম
বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের পুকুরে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর পৌনে ৫টার দিকে পুকুরের পূর্ব পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারের মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে একটি কুমির ফাতেমাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
মাজারের প্রধান খাদেম ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ তরিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ফাতেমা মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীর মেয়ে। তারা মাজার এলাকাতেই বসবাস করতো। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির বাবার পরিচয় এবং তাদের স্থায়ী ঠিকানা জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাতেমাকে গোসল করাতে পুকুরে নামে। এ সময় পুকুরে থাকা কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।
শিশুটির চিৎকার শুনে মাজার এলাকায় অবস্থানরত স্থানীয় লোকজন দ্রুত নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাতভর অভিযানে পর ভোর পৌনে ৫টার দিকে পুকুরের পূর্ব পাশে শিশু ফাতেমার মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আর কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেব।
প্রতিনিধি/এমআর