জেলা প্রতিনিধি
৩১ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
লক্ষ্মীপুরে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া জাহিদ নামের এক শিশুকে চোর অপবাদ দিয়ে আটকে রেখে বাম হাতে ইনজেকশন পুশ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের মুখে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নিয়ে ৩ দিনমজুরের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ওই নির্যাতিত শিশুকেই করা হয়েছে মামলার সাক্ষী। বর্তমানে গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিযুক্ত ৩ যুবক।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদের মা জাহেরা বেগম ভাঙা গলায় ছেলের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের অনুরোধ জানান।
নির্যাতিত জাহিদ সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের জামিয়াতুল আব্রাহ হাফেজি মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়াল বাড়ির (অ্যাডভোকেট কামালের বাড়ি) দিনমজুর ফজল করিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মে রাতে চররুহিতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সায়েরা বেগম নামের এক নারীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই রাতে বেড়ির ওপর থেকে মাদরাসাছাত্র জাহিদকে ধরে নিয়ে চোর অপবাদ দিয়ে বেদম মারধর করেন সায়েরা বেগমের বাবা মমিন উল্লাহসহ কয়েকজন। একপর্যায়ে জাহিদের বাম হাতে অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করা হয়। এতে জাহিদ অচেতন হয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড নির্যাতনের মুখে চুরির কথা স্বীকার করে সাদ্দাম, জুয়েল ও হৃদয় নামের ৩ যুবকের নাম বলে।
পরদিন ২৪ মে সায়েরা বেগমের বাবা মমিন উল্লাহ বাদী হয়ে অভিযুক্ত ৩ যুবকের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে শিশু জাহিদকে সাক্ষী করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদ জানায়, ঘটনার দিন সে মাদরাসা থেকে পালিয়েছিল। মা-বাবার ভয়ে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় রাস্তা থেকে তাকে ধরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং হাতে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এতে তার স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে সাদ্দাম, জুয়েল ও হৃদয়ের নাম বলে দেয়।
মামলার আসামি সাদ্দামের মা রোকেয়া ও স্ত্রী রিমু বলেন, ‘চুরির ঘটনায় সাদ্দামকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সাদ্দাম দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা এই মামলার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।’
তবে মামলার বাদী মমিন উল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মেয়ের বাড়িতে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে চুরি করতে হানা দেয় এবং আমার মেয়ে সায়েরা বেগমকে রক্তাক্ত জখম করে। আমি এই ঘটনায় আইনগতভাবে মামলা করেছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রতিনিধি/একেবি