images

সারাদেশ

রামিসা হত্যাকাণ্ডে আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি

৩১ মে ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আদালতের কাছে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (৩১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফুটবল ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে শিশু রামিসার রক্তাক্ত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করলে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আটক করে।

নৃশংস এই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারেরও দাবি জানিয়ে আসছে।

এমন প্রতিবাদের মধ্যে ২৪মে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপরই মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

law_minister-2

রোববার শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আদালতের কাছে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য-প্রমাণ আছে, তাতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদল থেকে পাঁচ জন সদস্য চাওয়া হয়েছে। তারা আমাদের জানিয়েছেন, তারা পরে সিদ্ধান্ত জানাবে। এখন আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি্।’

সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সমাজের সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নয়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকার সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষক কার্ড চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতদের সরকারিভাবে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা প্রমুখ।

প্রতিনিধি/এমআর