জেলা প্রতিনিধি
৩১ মে ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
সাম্প্রতিক সময়ে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একের পর এক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও আলোচনা বেড়েছে। বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, তিনবিঘা করিডোর এলাকায় উত্তেজনা, ভারতীয় চোরাকারবারিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ড্রোন পড়ে যাওয়া এবং পুশইনের আশঙ্কাসহ নানা ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে ভোরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি বিওপির সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল ইসলাম (২৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। এর আগে গত ৮ এপ্রিল পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন আলী হোসেন (৩৮) নামে আরেক বাংলাদেশি। পরপর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এদিকে সম্প্রতি পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কলসীমুখ সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানানো হয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
পরে তিনবিঘা করিডোর এলাকায় ভারতীয় সার্ভে বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে নতুন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং পরে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে বিজিবি তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
অন্যদিকে, কলসীমুখ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাকারবারিদের একটি দল বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের বাধা দেয়। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিজিবি। পরে চোরাকারবারিরা ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় একটি ভারতীয় ড্রোন পড়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি এবং তিস্তা-টু ৬১ বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, পুশইন, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বর্তমানে পাটগ্রামের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, তিনবিঘা করিডোর, কলসীমুখ এবং হাতীবান্ধার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ পুরো লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার রয়েছে। যদিও পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে, তবুও সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে।
প্রতিনিধি/এসএস