images

সারাদেশ

বান্দরবানে ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকের উপস্থিতি কম

৩০ মে ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী বান্দরবানে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে এবার প্রত্যাশিত পর্যটকের সমাগম ঘটেনি।

শনিবার (৩০ মে) জেলা সদরের নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও রুপালি ঝরনা ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অন্যান্য বছরের এই সময়ে যেখানে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত এসব এলাকা, সেখানে এবার তেমন ভিড় চোখে পড়েনি।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জেলা সদরের দু-একটি হোটেল ছাড়া অধিকাংশ হোটেলেই মাত্র ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী বুকিং না হওয়ায় অনেক কক্ষ এখনও খালি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক কম থাকায় আবাসন খাতের পাশাপাশি পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসনের জারি করা বিধিনিষেধ এবং ছুটি কম থাকাকেই পর্যটক কমার কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ জেলার দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যেখানে গত ঈদে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার। থানচিতে গত ঈদে ২ হাজারের বেশি পর্যটক গেলেও এবার গেছেন মাত্র ৪০০ জন। তবে রুমায় এবারও গতবারের মতো দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে। এছাড়া বিকাল ৫টা পর্যন্ত সদরের নীলাচলে ১ হাজার ৮০০ ও মেঘলাতে ১ হাজার ৪০০ পর্যটকের আগমন ঘটেছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম।

হোটেল হিলভিউয়ের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার মো. ইউনুছ জানান, আজ ও আগামীকাল তাঁদের হোটেলে প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে। তবে হোটেল হিল্টনের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার তপন বড়ুয়া বলেন, আজ তাদের হোটেলে ৬০ শতাংশ ও আগামীকালের জন্য ৪০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। অন্যান্য বার যেখানে রুম দিতে হিমশিম খেতে হতো, এবার সেখানে হোটেল অনেকটাই ফাঁকা।

রোয়াংছড়ি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিংনু মং মারমা এবং থানচি পর্যটক গাইড অফিসের সহকারী উত্তম ত্রিপুরা জানান, গত ঈদের তুলনায় এবার দেবতাখুম ও থানচিতে পর্যটকের সমাগম অনেক কম। অন্যদিকে রুমা পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি লাল রুকুয়াল বম বলেন, গত ঈদের মতো এবারও দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যটক বগালেক ও কেওক্রাডং ভ্রমণ করেছেন।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং পর্যটকদের জন্য বান্দরবান ভ্রমণ কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে যাওয়ার কারণে এবার আশানুরূপ পর্যটক আসেননি। ফলে দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও অধিকাংশ হোটেলের অর্ধেকের বেশি রুম খালি পড়ে আছে।

nilachal

বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করছে। সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ টিম মাঠে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 প্রতিনিধি/একেবি