জেলা প্রতিনিধি
৩০ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাটে কোরবানির ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাটে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, আড়তদাররা ‘লাম্পিস্কিন’ ও ‘পক্স’ রোগের অজুহাতে চামড়া বাতিল দেখিয়ে পানির দামে কিনছেন। ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের নতুন কারসাজির কারণে বাজারে ধস নেমেছে বলে দাবি তাদের।
শনিবার (৩০ মে) রাজারহাটে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গরু ও ছাগলের চামড়া নিয়ে হাটে ভিড় করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। অনেকেই পুঁজি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্বপন দাস জানান, তিনি প্রতিটি চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে কিনে এনেছেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত কোনো আড়তদার দাম বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আড়তদাররা বলছে চামড়ার করোনা হয়েছে। আমি এসব বুঝি না, কিন্তু কেউ দামও বলছে না।’
মণিরামপুরের ব্যবসায়ী স্বদেশ দাস ৬০টি গরুর চামড়া নিয়ে হাটে এসে জানান, প্রতিটি চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেনা হলেও আড়তদাররা এখন ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বলছেন। চামড়াগুলো ‘লাম্পিস্কিন’ বা ‘পক্স’ আক্রান্ত হওয়ায় দাম কম বলে দাবি করা হচ্ছে। মাগুরা থেকে আসা মহানন্দ অধিকারী এবং কেশবপুরের সঞ্জয় দাসও একই ধরনের লোকসানের অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, চামড়ার ক্রয়মূল্য ও লবণ খরচও উঠছে না।
তবে ব্যবসায়ীদের এই দাবির সঙ্গে একমত নন যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন পশুহাট পরিদর্শনে গিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাম্পিস্কিন বা অন্য রোগে আক্রান্ত পশু দেখা যায়নি। মানুষ সাধারণত দেখেশুনেই কোরবানির পশু কেনেন। তাই বাজারের অধিকাংশ চামড়াকে রোগাক্রান্ত বলা বিশ্বাসযোগ্য নয়; এটি ব্যবসায়ীদের কারসাজি হতে পারে।
এদিকে বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, হাটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাম্পিস্কিন আক্রান্ত গরুর চামড়া এসেছে। এসব চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় ট্যানারি মালিকরা নিতে চান না। ফলে এগুলোর বাজারমূল্য কমে গেছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল মজিদ পলাশ অবশ্য দাবি করেন, ভালো মানের চামড়া এখনও ভালো দামেই বিক্রি হচ্ছে। ঈদের দিন থেকে তিনি প্রায় তিন হাজার চামড়া ৫০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে কিনেছেন। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, ঈদের মাত্র একদিন পর হাট বসায় এবার বাজার পুরোপুরি জমেনি। আগামী হাটে বাইরের ব্যবসায়ীরা এলে বাজারে গতি ফিরতে পারে।
খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা রাজারহাটের এই চামড়ার মোকামে কেনাবেচা করেন। হাটের ইজারাদার রাজু আহমেদ জানান, শনিবারের হাটে প্রায় ১০ হাজার গরুর চামড়া ও কয়েক হাজার ছাগলের চামড়া এসেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছে। তবে বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতার উপস্থিতি না থাকায় লেনদেনের পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় কম ছিল।
প্রতিনিধি/একেবি