জেলা প্রতিনিধি
৩০ মে ২০২৬, ১২:৩৩ এএম
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কোরবানি পশুর চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে গর্ত করে চামড়া পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ মে) উপজেলার গোমকোট ও তেজের বাজার এলাকায় গরুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসানের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল আজহার দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুর চামড়া সংগ্রহ করে এক জায়গায় জমা করেন অস্থায়ী ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। বড় পাইকাররা এসে চামড়া কিনবেন—এমন প্রত্যাশায় তারা রাতভর অপেক্ষা করেন। তবে কোনো বড় ব্যবসায়ী না আসায় তারা হতাশ হন। এ সময় কিছু ছোট পাইকার ৫০ থেকে ১০০ টাকায় চামড়া কেনার প্রস্তাব দিলেও অধিকাংশ চামড়া বিক্রি হয়নি।
পরে অনেক ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে চামড়া ফেলে চলে যান। শুক্রবার দুপুরের দিকে বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে চামড়া পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক জায়গায় অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা বাজার ও দোকানের সামনে চামড়া জমা করে রেখেছিলেন। দাম কম থাকায় এবং বড় পাইকার না আসায় তারা বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়েন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, চামড়া সংগ্রহে নগদ টাকা বিনিয়োগ করেও তারা ন্যায্য দাম পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।
মোড্ডা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জসিম বলেন, ‘নগদ টাকা দিয়ে গরুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছি। কয়েকজন এসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বলেছে। শেষ পর্যন্ত চামড়া পুঁতে ফেলেছি।’
অপরদিকে গোমকোট গ্রামের অস্থায়ী ব্যবসায়ী ওসমান বলেন, ‘ভাই, দাম পাওয়ার আশায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ টাকা দিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছি। কিন্তু ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গর্ত করে পুঁতে ফেলেছি। চামড়া ক্রয়ের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, ‘যারা জাতীয় সম্পদ নষ্ট করেছে, তারা ঠিক করেনি। আমরা প্রত্যেক মাদ্রাসায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ পৌঁছে দিয়েছি। কেউ আগে জানালে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’