জেলা প্রতিনিধি
২৯ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান সড়কের পাশে ফেলে রাখা পচা চামড়া দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা পর অপসারণ করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আহমেদের নেতৃত্বে এই বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। চামড়াগুলো এক্সেভেটর দিয়ে ট্রাক্টরে তুলে নেওয়ার সময় শহরজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রক্তমাখা কাদা ও অবশিষ্ট অংশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধ করতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেয়।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ জানান, "আমরা দিনভর চামড়ার মালিকদের খুঁজেছি। কাউকে না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পৌর প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের নির্দেশনায় দ্রুত এই পচা চামড়া অপসারণের কাজ শুরু করি।" দুর্গন্ধ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চামড়াগুলো মাটিচাপা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পৌরবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আগামী দিনে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কাউকে বসতে দেওয়া হবে না। তার জন্য সুনির্দিষ্ট আলাদা জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল দিনভর পশু কোরবানির পর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ন্যায্য মূল্য ও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না পেয়ে শত শত কাঁচা চামড়া রাস্তার ওপর স্তূপ আকারে ফেলে রেখে চলে যান তারা। এতে শহরের পুরাতন কোর্ট রোড, পৌর সুপার মার্কেট, পূবালী ব্যাংক চত্বর ও মঠের গোড়া এলাকায় ফেলে রাখা চামড়া পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, যা নিয়ে পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বছর সরকার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছিল ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।
প্রতিনিধি/একেবি