images

সারাদেশ

গাইবান্ধায় দুস্থদের জন্য ১২০ গরু কোরবানি, পেলেন ৪ হাজার পরিবার

জেলা প্রতিনিধি

২৯ মে ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বন্যা ও নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের জন্য ১২০টি গরু কোরবানি করা হয়েছে। এসব মাংস ৪ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) দিনব্যাপী এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তায় পৃথক তিনটি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় প্রতিটি পরিবারকে দুই কেজি করে গরুর মাংস দেওয়া হয়।

সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, সাঘাটা, মুক্তিনগর, জুমারবাড়ী ও কামালেরপাড়া ইউনিয়ন এবং ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি, উড়িয়া ও উদাখালী মোট ৯টি ইউনিয়নে সুবিধাভোগীরা এই কর্মসূচির আওতায় পড়েন।

শুক্রবার তিনটি কেন্দ্র সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের ভরতখালীতে এসকেএস রিসোর্স সেন্টার, জুমারবাড়ী ইউনিয়নে জিকেএস-এর অফিস প্রাঙ্গণ এবং ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে প্রতিটি পরিবারকে দুই কেজি করে গরুর মাংস প্রদান করা হয়। এতে ১২০টি গরু কোরবানি দেওয়া হয়। এছাড়াও কোরবানির পশুর চামড়া স্থানীয় ৫টি মাদরাসাকে দান করা হয়েছে।

গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজার রহমান বলেন, নদী ভাঙনের কারণে এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখন গরিব হয়ে গেছে। যাদের কোরবানি দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই। এসব দুস্থ-গরিব মানুষের মাংস কিনে খাওয়া স্বপ্নের মতো। ঈদের পরের দিন কোরবানির মাংস দিয়েছে এসকেএস। সেটুকু রান্না করে পরিবারের সবাই খেয়েছেন।

ed7647e8-41d0-459d-b31e-b9a654b6a731

জুমারবাড়ী ইউনিয়নে জিকেএস-এর অফিস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জিএকএস এর নির্বাহী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন।

ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহীম আকন্দ সেলিম।

ভরতখালী এসকেএস রিসোর্স সেন্টারে মাংস বিতরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহকারী প্রজেক্ট অফিসার আহসান হাবীব, এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের উপ-পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোওয়ার, এসকেএস এন্টারপ্রাইজ হেড অব আবু সাঈদ সুমন ও এসকেএস রিসোর্স সেন্টারের ম্যানেজার মিজানুর রহমান আকন্দসহ অনেকে।

এ প্রসঙ্গে এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের উপ-পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোওয়ার বলেন, চরাঞ্চল ও নদীভাঙনকবলিত এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবার প্রথমবারের মতো তিনটি পৃথক কেন্দ্র থেকে মাংস বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এ ব্যাপারে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহকারী প্রজেক্ট অফিসার আহসান হাবীব বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও সুবিধা বঞ্চিত ও দরিদ্র ৪ হাজার ২০০ পরিবারের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এই মাংস বিতরণ কার্যক্রম শুধু একটি বিতরণ কার্যক্রম নয়, বরং যে সব পরিবার সারাবছর মাংস খেতে পারে না, তাদের পারিবারিক পুষ্টি যোগাতেও সাহায্য করবে।

প্রতিনিধি/এসএস