জেলা প্রতিনিধি
২৯ মে ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদারীপুর পৌরসভায় নেই কোনো ডাম্পিং স্টেশন। তাই ইউনিয়নের উপর দিয়ে চলে যাওয়া মহাসড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে বাতাসের সাথে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে রোগবালাই। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকা। তবে, শিগগিরই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পৌর কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদারীপুর শহরের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ভ্যানে করে নিয়ে আসা হচ্ছে সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায়। পরে ফেলা হচ্ছে মাদারীপুর-শরিয়তপুর মহাসড়কের পাশে। অথচ, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। নাক-মুখ চেপে ধরে পথচারী ও যাত্রীদের করতে হচ্ছে যাতায়াত। বাতাসের সাথে ময়লা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে।

জানা যায়, দেড়শো’ বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় নেই কোনো আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা হলেও অপসারণে নেই কোনো উদ্যোগ। ফলে টানা বৃষ্টিতে বর্জ্য থেকে বের হওয়া পানি ছড়িয়ে পড়ছে ফসলি জমি ও পুকুরে। এতে বাড়ছে রোগবালাই, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ক্ষুব্ধ যাত্রী, চালক, পথচারী ও এলাকাবাসী।

তথ্য বলছে, মাদারীপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। ময়লা অপসারণে ১১১ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ৩০ জন ভ্যান ও ট্রাকচালক নিয়োজিত রয়েছে। ১৯৯১ সালে মাদারীপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। এরপর কেটে গেছে ৩৫ বছর। দীর্ঘদিনেও কেন আধুনিক বর্জ্যব্যবস্থপনা ইউনিট গড়ে উঠেনি এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

পথচারী রফিক মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। কিন্তু ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে রাস্তা হাঁটাচলা করাই এখন কঠিন। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নাক চেপে ধরে চলতে হয়। এর থেকে আমরা প্রতিকার চাই।’
ইজিবাইকের যাত্রী করিম মাতুব্বর বলেন, ‘মাদারীপুর পৌরসভার ময়লা ফেলা হয় পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায়। এটি বড় ধরনের অন্যায়। এতে ইউনিয়নবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে, আর এর দুর্গন্ধে রোগবালাইও বাড়ছে।’

সচেতন নাগরিক কমিটির মাদারীপুরের সভাপতি খান মো. শহীদ বলেন, ‘দেড়শো’ বছরের এই পুরোনো পৌরসভায় দীর্ঘদিনেও কেন আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন গড়ে উঠেনি, সেটি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এখানে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বড় প্রশ্ন থাকে, তা না হলে পৌরসভার দুই লাখ মানুষ কেন এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।’

মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানু বলেন, এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে নেয়া প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, অর্থ আসলেই শুরু হবে পরবর্তী কার্যক্রম। আগামী অর্থবছরেই বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে এই প্রকল্প।
প্রতিনিধি/এসএস