জেলা প্রতিনিধি
২৮ মে ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় মোবাইল ফোনে গেম খেলা নিয়ে বকাঝকার জেরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত আব্দুস শহীদ (৫০) সদর উপজেলার অনন্তপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তরা হলেন তার স্ত্রী পিয়ারা খাতুন (৪০) এবং ছেলে মোজাম্মেল আহমেদ প্রতীক (১৮)।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে নিহতের ভাতিজা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রতীক ঘরে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল। দীর্ঘ সময় ধরে গেম খেলা এবং পড়াশোনায় অমনোযোগিতা নিয়ে বাবা আব্দুস শহীদ তাকে বকাঝকা করেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ঝগড়ায় ছেলের পক্ষ নিয়ে স্ত্রী পিয়ারা খাতুনও স্বামীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঘরে থাকা লাঠি দিয়ে আব্দুস শহীদের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুস শহীদ দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসজীবন কাটিয়েছেন। প্রবাসে থাকার কারণে ছেলে প্রতীকের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মোবাইল আসক্তি গড়ে ওঠে বলে দাবি তাদের। পরে দেশে ফিরে তিনি ছেলেকে শৃঙ্খলায় আনার চেষ্টা করলেও সফল হননি।
হাসপাতালে মরদেহ নিতে আসা স্বজনরা অভিযোগ করেন, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার সুযোগে প্রতীক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। মোবাইল না পেলে তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে উঠত বলেও তারা দাবি করেন।
ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রতীক বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি বাবা মারা যাবেন। তখন মাথা ঠিক ছিল না। আঘাত করার পর বাবার মাথা থেকে রক্ত বের হতে দেখে আমার হুঁশ ফিরে আসে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন দাশ জানান, মোবাইলে গেম খেলতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ও সন্তানের হামলায় গৃহকর্তা নিহত হয়েছেন। আটক মা ও ছেলে দুজনেই এই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআর