images

সারাদেশ

বিকাশ কোম্পানির ছিনতাই হওয়া টাকা পরিশোধের চাপে বিকাশ কর্মীর আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি

২৭ মে ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ছিনতাই হওয়া বিকাশের টাকা পরিশোধে বিকাশ কোম্পানির ম‍্যানেজারের চাপে পড়ে মো. ফয়সাল মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন‍্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

নিহত যুবক ফয়সাল উপজেলার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বড়আলমপুর গ্রামের সাবেক সেনা সদস‍্য নাছির উদ্দিন বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এম এস নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিকাশের ৮ লাখ টাকা নিয়ে ট্রানজেকশনের উদ্দেশে বের হয়ে দুপুর আনুমানিক ১টায় মুরাদনগর উপজেলার ডালপা এলাকায় একটি ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। ছিনতাই চক্রের সদস‍্যরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত করে। ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি সেলাই দেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় বিকাশ কোম্পানির ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ফয়সাল। পরবর্তীতে বিকাশ কোম্পানির ম‍্যানেজার রিপন মিয়া টাকা পরিশোধের জন‍্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। ফয়সাল ঈদের পর বিষয়টি নিষ্পত্তি করার অনুরোধ করেন। ম‍্যানেজার রিপন মিয়া ঈদের আগেই ফয়সালা করার চাপ দেন। নচেৎ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ‍্য হব। এছাড়াও ফয়সাল বিভিন্নভাবে কয়েক লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত বলে জানা গেছে। এদিকে নিজের কোরবানির পশু কেনার সামর্থ নেই, উল্টো টাকার চাপ, সন্দেহজনক মিথ্যা অভিযোগের অপবাদ সইতে না পেরে মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ফয়সাল।

স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে গৌরিপুর ও পরে কুমিল্লা মেডিকেলে সিট না পেয়ে জেলা সদরে রোকেয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৭ মে) সকালে মারা যায় ফয়সাল।

এ ব‍্যাপারে নিহতের বাবা নাছির উদ্দিন বাচ্চুমিয়া জানান, আমার ছেলে বিকাশে চাকরি করত, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে ডিউটিকালীন অবস্থায় মুরাদনগর উপজেলার ডালপা এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। এসময় তার কাছে থাকা কোম্পানির ৮ লাখ টাকা ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এ টাকা পরিশোধ করতে আমার ছেলেকে বিকাশ কোম্পানি থেকে চাপ দেওয়া হয়। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আমার ছেলেটা আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

নিহতের স্ত্রী আয়শা আক্তার জানান, দুই বছর হলো আমাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে থেকেই সে বিকাশে চাকরি করত, কিন্তু সেদিন আমার স্বামীকে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেই টাকা পরিশোধ করতে ম্যানেজার আমার স্বামীকে চাপ দিতেন। সে আমাকে বলতো, আয়শা আমি কাদের জন্য এতদিন কাজ করলাম। এই টাকা নাকি আমাকে পরিশোধ করতে হবে, আমি এখন কি করব। শেষ মেসেজে সে আমাকে বলেছিল, তোমার সঙ্গে আর কোনোদিন কথা হবে না আয়শা, তুমি আমার ছেলেটাকে দেখে রেখ। কোনোদিন আর দ্বিতীয় বিয়ে করো না আয়শা। আমি এখন আমার তিনমাসের ছেলেটাকে নিয়ে কি করব, কীভাবে বাঁচব বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ বিষয়ে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ম্যানেজার অভিযুক্ত রিপন মিয়া বলেন, আমরা তাকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করিনি। ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার সংবাদে তাকে গিয়ে দেখে আসি। চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। গত সোমবার (২৫ মে) ফয়সালসহ আমরা বাঙ্গরা বাজার থানায় যাই, সেখানে ফয়সাল বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এসময় ফয়সাল কিছু অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তা বললেও এ নিয়ে আমরা কিছু বলিনি সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। পরে ১০০ টাকা নিয়ে সে বাড়িতে চলে আসে। এখন তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি, অফিসের লোকজন পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে ফয়সাল নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস