images

সারাদেশ

রংপুরে বেড়েছে কাঠের গুঁড়ি ও দা-বটির বিক্রি

২৭ মে ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

রাত পোহালেই ঈদ। ঈদুল আজহায় কোরবানির মাংস কাটার জন্য দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতির পাশাপাশি গাছের গুঁড়ির চাহিদাও বেড়েছে। তবে দা, বটি ও ছুরির দাম বাড়লেও এবার কাঠের গুঁড়ির দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই গুঁড়ি, যা গত বছর সর্বনিম্ন ৩০০ এবং সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর, পুরান ট্রাক স্ট্যান্ড, লালবাগ হাট, বুড়ির হাট, বাস টার্মিনাল, সিটি বাজার, সাহেবগঞ্জ বাজার ও মেডিকেল মোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ঈদের ৩-৫ দিনের জন্য এই কাঠের গুঁড়ি বিক্রি হচ্ছে। বছরের অন্যান্য দিন সাধারণত এই দৃশ্য দেখা যায় না।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঠের গুঁড়ির এসব ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। কোরবানির মাংস ভালোভাবে পিস করার জন্য এই গুঁড়ির প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে তেঁতুল ও বেল গাছের কাঠ থেকেই অধিকাংশ গুঁড়ি তৈরি হয়। অন্য গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি গুঁড়ি টেকসই না হওয়ায় এর ব্যবহার কম। তবে অধিকাংশ গুঁড়িই তৈরি হয় তেঁতুল গাছ দিয়ে। বর্তমানে তেঁতুল গাছ দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় মাংস কাটার গুঁড়ির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। শহরে যারা বাস করেন, তাদের বাজার ছাড়া গুঁড়ি সংগ্রহ করার বিকল্প কোনো উপায় থাকে না।

কাঠের গুঁড়ি ব্যবসায়ী আতাহার আলী জানান, সব জিনিসের দাম বাড়ায় কাঠের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ এলে তেঁতুল ও বেল গাছের কাঠের দাম বাড়ে। তবে কাঠের দাম বাড়লেও এবার গতবারের তুলনায় দোকানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজার প্রতিযোগিতার কারণে দাম কিছুটা কম।

অপর কাঠের গুঁড়ি ব্যবসায়ী রমজান মিয়া জানান, বেশি দামে কাঠের গুঁড়ি কেনা হলেও সেই তুলনায় কম লাভেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যারা কোরবানি দিচ্ছেন, তারা দাম নিয়ে বেশি ভাবছেন না; পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছেন।

নগরীর কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির মানিক বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আগে পশু জবাই ও মাংস তৈরির উপকরণ হিসেবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও গাছের গুঁড়ি কিনতে হয়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমি এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কাঠের গুঁড়ির দাম কম।’

এদিকে কাঠের গুঁড়ির পাশাপাশি মাংস কাটার জন্য দা, বটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতির চাহিদার সঙ্গে দামও বেড়েছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম বাড়ায় বিক্রি কিছুটা কম বলে জানান বিক্রেতারা।

রংপুর নগরীর কামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে ঘিরে শেষ সময়ে কামাররা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। টুংটাং শব্দই জানান দিচ্ছে রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কামার শিল্পী নগেন চন্দ্র জানান, লোহার দাম বাড়ায় বাধ্য হয়েই তৈরি পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। যদিও আগের মতো এই ব্যবসায় লাভ নেই। মনি মহন্ত নামের আরেকজন জানান, সারাবছর কাজের ব্যস্ততা কম থাকলেও ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা ও আয় বাড়ে। তবে শ্রম ও লোহার মূল্য বাড়ায় লাভ আগের চেয়ে কম। সংসার সচ্ছলভাবে চলে না, তারপরও পূর্বপুরুষের এই পেশা ধরে রেখেছেন।

কেরানীপাড়ার ক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, গত বছর একটি ভালো চাপাতির দাম ছিল ২৫০-৪০০ টাকা, এবার তা ৪৫০-৬০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে দা, বটি, ছুরি ও চাকুর দাম বেড়েছে। প্রেসক্লাব এলাকার মিঠু মিয়া বলেন, ‘মৌসুমি যেকোনো জিনিসপত্রের দাম প্রতি বছরই বাড়ে। দা, বটি ও ছুরির দাম বাড়লেও করার কিছু নেই; যেহেতু দরকার, তাই কিনতে হচ্ছে।’

প্রতিনিধি/একেবি