জেলা প্রতিনিধি
২৬ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সাময়িকভাবে ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবসহ আর্থিক সম্পদ অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল আমিন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বরগুনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমান গত ২০ মে এই আদেশ দেন। আদেশের অনুলিপি ২১ মে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর আওতায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। শুনানিতে পিপি আদালতকে জানান, সাবেক এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আসামি ও তার পরিবারের সদস্যরা সম্পদ গোপনে হস্তান্তরের অপচেষ্টা করছেন। তাই তদন্তের স্বার্থে সম্পদ ক্রোক ও আর্থিক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮ মোতাবেক তফসিলভুক্ত সম্পদ সাময়িকভাবে ক্রোকের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদ অবিলম্বে ফ্রিজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া আসামির আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী জব্দ করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। আদেশের সারসংক্ষেপ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশের জন্যও দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত, যেন কোনো তৃতীয় পক্ষ সম্পত্তি কেনাবেচায় জড়াতে না পারে। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী এই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ। ওই দিন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি