images

সারাদেশ

শহর যখন উৎসবে, তারা তখন দায়িত্ব পালনে

২৬ মে ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকেই মৌলভীবাজার শহরে অঝোরে বৃষ্টি। সকাল গড়াতেই বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় শহরের অনেকেই ঘরে বিশ্রামে কিংবা ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু এই ছুটির দিনেও থেমে নেই শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের চাকা।

আর মাত্র একদিন পর ঈদুল আজহা। মৌলভীবাজার শহরের অলিগলি, হাটবাজার আর বাসাবাড়িতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। তবে এই উৎসবের আমেজের আড়ালেই চলছে আরেকটি নীরব প্রস্তুতি। মৌলভীবাজার পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আবর্জনা বহনের গাড়ির চালক ও তাদের সহযোগীরা এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের প্রতিটি কোণ পরিচ্ছন্ন রাখতে নিরলস ছুটে চলছেন তারা।

বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। পশুর হাট, বাজার ও আবাসিক এলাকার অতিরিক্ত বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করতে না পারলে শহরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পৌরসভার কনজারভেন্সি শাখা ছয় সদস্যের একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। আট দিনব্যাপী পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া শহরের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঈদের আগের দিন রাত ৩টা থেকে ঈদের দিন সকাল ১১টা এবং দুপুর ১টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ১৩৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৩৮ জন ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজার দায়িত্বে থাকবেন।

Mowlovie-bazar-2

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রফিক মিয়া বলেন, ‘ঈদের সময় আমাদের কাজ অনেক বেড়ে যায়। মানুষ যখন আনন্দে ব্যস্ত থাকে, তখন আমরা চেষ্টা করি শহরটাকে পরিষ্কার রাখতে। আমাদের ছুটি বলতে কিছু থাকে না।’ গাড়িচালক আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঈদের দিন মানুষ যাতে দুর্গন্ধের কারণে কষ্ট না পায়, সেজন্য আমরা আগেই সবকিছু গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করি।’

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা ঈদের দিন ছুটি না কাটিয়ে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ পৌরবাসীর সেবায় নিয়োজিত থাকেন, ঈদের পরের দিন তাদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হবে। প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যানদের স্মরণে দেওয়া কোরবানির পশুর মাংস দিয়ে এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আপ্যায়ন করা হবে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘আমরা যে পরিচ্ছন্ন শহরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি, তার পেছনে আছে এই অদৃশ্য নায়কদের নিরলস পরিশ্রম। নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে অন্যদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা তাদের এক ধরনের মানবিক সেবা।’

Mowlovie

মৌলভীবাজার পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঈদের দিন ও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাকে আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শহরের প্রধান সড়ক ও আবাসিক এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’

প্রতিনিধি/একেবি