images

সারাদেশ

পদ্মা সেতুতে বদলে যাওয়া ঈদ, জাজিরা প্রান্তে উৎসবের আমেজ

২৮ মে ২০২৬, ০৮:১৩ এএম

একসময় ঈদ মানেই ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য ভোগান্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা কিংবা নদীপথের দুর্ঘটনার আতঙ্ক ছিল নিত্যসঙ্গী। পদ্মা সেতু চালুর পর বদলে গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। ঢাকার সঙ্গে শরীয়তপুরের দূরত্ব কমার পাশাপাশি বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা ও ঈদ উদযাপনের আমেজ।

ঈদের ছুটিতে এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন পদ্মা সেতু দেখতে। বিশেষ করে সেতুর নিচের বেড়িবাঁধ এলাকা এখন পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। ঈদের আগে-পরে কয়েক দিন এখানে দেখা যায় হাজারো মানুষের ঢল।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পদ্মাপাড়জুড়ে থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছেন, আবার কেউ সেতুর নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত। নদীর তীরে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা ফুচকা, চটপটি, খেলনাসহ বিভিন্ন দোকানে জমে উঠেছে বেচাকেনা। সব মিলিয়ে ঈদকেন্দ্রিক এক প্রাণচঞ্চল অর্থনীতি তৈরি হয়েছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ সহজ করেনি, বদলে দিয়েছে জাজিরার অর্থনৈতিক বাস্তবতাও। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘আগে শরীয়তপুরকে অনেকে শুধু নদীভাঙনের জেলা হিসেবে চিনত। এখন মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। এতে স্থানীয় তরুণদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

padma-seto

ঈদকে ঘিরে অনেকে অস্থায়ী ব্যবসায় নেমেছেন। কেউ নৌকা নিয়ে পর্যটকদের ঘোরাচ্ছেন, কেউ খাবারের দোকান দিয়েছেন। জাজিরার নাওডোবা এলাকার ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা আশিক বলেন, ‘সেতু হওয়ার আগে এখানে এত মানুষ আসত না। এখন ঈদের সময় বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’

শুধু পর্যটন বা ব্যবসা নয়, মানুষের যাতায়াতেও এসেছে বড় স্বস্তি। আগে ঢাকায় কর্মরতদের ঈদে বাড়ি ফিরতে লঞ্চ ও ফেরির দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতো। এখন অনেকেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে পদ্মা সেতু এখন স্বস্তি, নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার প্রতীক।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আনসার সদস্যদের বাড়তি সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও রয়েছে। পদ্মা সেতুর রক্ষাবাঁধ এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, পর্যটন ও অর্থনীতির এই গতি ধরে রাখতে হলে নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

padma

তবুও এখন জাজিরা প্রান্তে দাঁড়ালে চোখে পড়ে মানুষের মুখের হাসি। পদ্মার বাতাসে মিশে থাকে উৎসবের আমেজ, শহর থেকে ফেরা মানুষের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় গ্রামীণ জনপদ।

প্রতিনিধি/একেবি