জেলা প্রতিনিধি
২৬ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
টানা বর্ষণ ও পানির তীব্র স্রোতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদীগর্ভে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ায় নদীপারের বহু পরিবার এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) এলাকায় সরেজমিনে ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে। ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে এবং হুমকিতে রয়েছে আরও বহু পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীর পানি ও স্রোত দুটোই বেড়েছে। এতে সীট জামুডাঙ্গা মুন্সীপাড়া এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হয়। ইতোমধ্যে জহুরুল, সাদা, মুকুল, মচকুট ও মোস্তফাসহ অনেকের ভিটেমাটি বিলীন হওয়ায় তারা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়া আজিজল, আনোয়ারুল, ফুল মিয়া, নীল মিয়া ও শহিদুলের ঘরবাড়ি এবং বাঁশঝাড় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই এলাকায় নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও সুফল মেলেনি। দুই বছর আগে জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত নীল মিয়া বলেন, দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেল। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন খুব কষ্টে আছি। সরকারি কোনো সাহায্যও এখনো পাইনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন দাখিল করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
প্রতিনিধি/একেবি