২৬ মে ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ট্যানারি মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের বকেয়া এবং ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় আসন্ন ঈদে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই জয়পুরহাটের ব্যবসায়ীদের। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বারবার লোকসান হওয়ায় এই খাতের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদের আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু বাজার থেকে কাঁচা চামড়া কেনার পর লবণ দিয়ে প্রস্তুত করে বিক্রি করতে গেলে ট্যানারি মালিকরা সেই দামে আর চামড়া কেনেন না। আবার যে দামে কেনেন, সেটাও নগদে পাওয়া যায় না। এভাবে বছরের পর বছর বকেয়া থাকায় চামড়া ব্যবসা নিয়ে মহাবিপদে আছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় অনেক ব্যবসায়ী ধারদেনা করে কোনো রকমে ব্যবসা ধরে রাখলেও, অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।
সরেজমিনে শহরের সিও কলোনি, আমতলী এবং পাঁচবিবির রেলস্টেশন ও বড় মসজিদ এলাকার বিভিন্ন চামড়ার গুদামে গিয়ে দেখা গেছে, সবগুলো গুদামই প্রায় ফাঁকা। মাঝে মধ্যে দু-একটা গুদামে লবণের কিছু বস্তা চোখে পড়লেও ঈদের আগে চামড়া কেনার কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। অনেক গুদামে ঝুলছে তালা।
ঈদে চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয় জয়পুরহাট পৌরসভার সিও কলোনির গোলজার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো প্রতি বছর ধারদেনা করে চামড়া কিনি। কিন্তু বিক্রি করতে গেলে সরকারি রেটের অর্ধেক দামও পাওয়া যায় না। এই লোকসান দিয়ে আর ব্যবসা করা সম্ভব নয়। অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে চামড়া ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।’
শহরের আমতলীর চামড়া ব্যবসায়ী বাবু হোসেন বলেন, ‘রোজার ঈদের পর চামড়া কিনে আসল দামেও বেচতে পারিনি। এজন্য এবার আর চামড়া কেনার কোনো আগ্রহ নেই।’
শহরের নতুনহাট এলাকার পুরাতন চামড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা প্রতিবারই চামড়া কিনি, এবারও কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা খুব সুযোগসন্ধানী। তারা বাকি ছাড়া ব্যবসা করে না। এক সপ্তাহের সময় নিয়ে ছয় মাসেও টাকা শোধ করে না। বারবার বাকি দিলে আমরা টাকা কোথায় পাব?’
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি ও শহরের সিও কলোনির বড় চামড়া ব্যবসায়ী শামিম আহম্মেদ বলেন, ‘ক্রমাগত লোকসানের কারণে এবার ঈদে জেলার ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। গত বছর সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও অর্ধেক দামেও কেউ চামড়া বিক্রি করতে পারেনি। আবার গত বছরের তুলনায় এবার লবণের দামও বস্তাপ্রতি দেড়শ টাকা বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরিও বাড়তি। ব্যাংক থেকেও সহযোগিতা মেলে না। এজন্য চামড়া কেনার কোনো আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের।’
বকেয়াসহ নানা প্রতিকূলতার পরও প্রতি ঈদে প্রায় ১০০ কোটি টাকার চামড়া সরবরাহ করেন জয়পুরহাটের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বকেয়ার পাশাপাশি ক্রমাগত লোকসানের শঙ্কায় এবার চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তারা। দেশের সম্ভাবনাময় এই চামড়া খাতকে গতিশীল করতে সরকারের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
প্রতিনিধি/একেবি