images

সারাদেশ

যমুনা সেতু পার হলেই স্বস্তি, সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে নেই যানজট

জেলা প্রতিনিধি

২৬ মে ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও যমুনা সেতু ও সংযোগ মহাসড়ক পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ অংশে দেখা গেছে স্বস্তিদায়ক যান চলাচল। ২২ জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান রুট এই মহাসড়কে বাড়তি চাপ থাকলেও কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়নি।

ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হয়েছে। এতে যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তবে সেতু পার হয়ে ঢাকা-রংপুর চারলেন মহাসড়ক ও হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেন চালু থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সরেজমিনে বুধবার (২৬ মে) সকালে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় দেখা যায়, বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে কোথাও যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়নি।

syrajgong-2মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত লেনে শৃঙ্খলিতভাবে যান চলাচল করায় বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়নি।

ঢাকা থেকে রংপুরগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গতকালও ঢাকা থেকে যাত্রাবাহী বাস নিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। যমুনা সেতু পার হওয়ার পরে চার লেন ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের কারণে যানজট পায়নি সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে। প্রশাসন দায়িত্বশীল হলে আশা করছি এবার আর যানজটে পড়তে হবে না।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ভোগ কমাতে চালু করা হয়েছে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেন। ফলে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যানজট নেই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ বাড়ছেই।’

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক ব্যবহার করেছে। এত বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচলের পরও মহাসড়কে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রয়েছে।’

syrajgong-3সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঢাকা মেইলকে বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পশুবাহী ট্রাকের চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক, বগুড়া মহাসড়ক, পাবনা মহাসড়ক এবং তাড়াশ হয়ে নাটোর সীমান্ত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে রয়েছে। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় আমরা তিনটি কানেকটিং সড়ককে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। যমুনা সেতু পশ্চিম থেকে বগুড়া, পাবনা ও তাড়াশের শেষ নাটোরের সীমান্ত পর্যন্ত। এই তিনটি সড়কের নিরাপত্তা বজায় রাখাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আশা করি এবার যানজটমুক্ত ও নিরাপদে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।

প্রতিনিধি/এমআর