জেলা প্রতিনিধি
২৬ মে ২০২৬, ০৭:০২ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে পিরোজপুরের পশুর হাটগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, জেলার বিভিন্ন হাটে ততই বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরগরম হয়ে উঠছে পশুর হাটগুলো। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা; অধিকাংশ ক্রেতাই আপাতত বাজার ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছেন।
জেলার সাতটি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ২৬টি পশুর হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। হাটগুলোতে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গরু ও ছাগল উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি হাটে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি গরু এবং ১০০ থেকে ১৫০টি ছাগল উঠেছে। বর্তমানে গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। তবে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত। বিক্রেতারা বলছেন, খামারে পশু লালন-পালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ভালো দাম প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।
জিয়ানগরের খামারী বাদশা হাওলাদার বলেন, ১৯টা গরু হাটে তুলছি, এর মধ্যে ৪টা বিক্রি হয়েছে। বাজার মোটামুটি ভালো, তবে আগের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে।

খামারী মো. আলম মোল্লা বলেন, দেশি গরু ঘাস-ভুষি খাইয়ে লালন-পালন করেছি। গরুর ওজন ১১০ থেকে ১১৫ কেজি হবে। দাম চাচ্ছি ৯৫ হাজার টাকা। বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো।
আরেক খামারী মো. ইয়াছিন শেখ বলেন, ৭টা গরু এনেছি, ২টা বিক্রি করেছি। এবারের বাজার খুব একটা ভালো না, তবে সামনে বেচাকেনা বাড়বে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের এক বিক্রেতা মো. রফিক খান বলেন, এখনো বেচাকেনা কম। আমি ৫টা গরু নিয়ে এসে মাত্র ১টা বিক্রি করতে পেরেছি। মানুষ সাধারণত কোরবানির দুই-একদিন আগে গরু কেনে।
আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ক্রেতা জানান, এখন বাজার দেখতে এসেছি। ভালো গরু পেলে কিনব। তবে কোরবানির দুই-একদিন আগেই কেনার ইচ্ছা আছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি ছোট-বড় খামার রয়েছে। এসব খামারে এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ২৭ হাজার ৪০৬টি পশু। এর মধ্যে গরু ১৯ হাজার ৩৮৫টি, ছাগল ১১ হাজার ১০টি, মহিষ ৪১টি এবং ভেড়া ১৮২টি। চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২১ হাজার ৮৯৯টি। ফলে চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৪১৭টি পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
হাটে ছাগলের সরবরাহও ভালো দেখা গেছে। বিশেষ করে ছোট পরিবারের ক্রেতাদের মধ্যে ছাগলের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার বলেন, হাটে ভারতীয় ও মিয়ানমারের গরু না আসায় স্থানীয় খামারীরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
প্রতিনিধি/এফএ