জেলা প্রতিনিধি
২৬ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম
ঈদুল আজহার আর দুদিন বাকি রয়েছে। গত সপ্তাহে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও এ সপ্তাহে বেড়েছে কয়েকগুণ কোরবানির পশুর কেনাবেচা। ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের গরু দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। তবে ছোট সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে হাটগুলো জমে উঠলেও ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে হাটে হাসিল বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বারের থেকে এবারে গরুর দাম তুলনামূলক কম। তবে শেষ দুইদিনে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাটে দেখা গেছে, ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে এক লাখ টাকা, মাঝারি সাইজের গরু এক লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ টাকা এবং বড় সাইজের গরু আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ, চার লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের গরুর চাহিদা খুবই কম। ছোট এবং মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
শহর গ্রাম প্রায় সব হাটেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর পশু বাছাইয়ের দৃশ্যে পুরো এলাকা যেন কোরবানির উৎসব মুখর পরিবেশে রূপ নেয়। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারীরা পশু কিনতে এসেছেন। তারা শেষ সময়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন প্রচুর পরিমাণে। এবারে রংপুর জেলা ও বিভাগের পশুর ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে।
গজঘন্টা হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আমিনুর রহমান বলেন, একটা গরু এক বছর লালন-পালন করতে অনেক খরচ হয়। গরুর খাদ্য, খড়, ভুসি, খৈল ও ওষুধের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যয়ের তুলনায় আমরা ভালো দাম পাচ্ছি না। একই কথা জানান, রমজান আলী। তিনি জানান, খামারে ২০টা গরু থেকে বছরে যদি ৫ লাখ টাকা আয় না হয়, তাহলে গরু লালন-পালন করে কোনো লাভ নাই। এমন আক্ষেপের কথা আরো কয়েকজন খামারী জানান।
ওই হাটের ক্রেতা রমজান আলী জানান, এবারের হাটে গরুর দাম বেশি। তারপরও কয়েকটি হাটে তিনি গুরু দেখেছেন। এখনও কেনা হয়নি। আজ লালবাগ হাটে যাবেন। পছন্দ হলে কিনবেন। সাখাওয়াত হোসেন জানান, হাটেই এসেই কয়েকটি গরুর মধ্যে একটি গরু পছন্দ হয়েছে, তিনি কিনেছেন, এক লাখ টাকা দাম। সাধ্যের মধ্যেই হয়েছে এবারের কোরবানির গরু কেনা। তিনি সন্তুষ্ট। ৮০ হাজার টাকায় কোরবানির গরু কিনেছেন মানিক মিয়া। তিনি বলেন, দাম কম-বেশি বুঝি না, কোরবানি দেওয়া লাগবে এবং সাধ্যের মধ্যে পেয়েছি।

বুড়ির হাটের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু নিয়ে এসেছেন আব্দুল জলিল। তিনি কয়েকটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন। দামদর হচ্ছে তবে এখনও বিক্রি হয়নি। তিনি আশার করছেন শেষ সময়ে বিক্রি হবে গরুগুলো।
এদিকে হাটগুলোতে কোরবানির পশু কেনাকাটা জমে উঠলেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে হাসিল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কাগজ কলমে যে হাসিল নেওয়ার কথা, তার থেকে দ্বিগুণ হাসিল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এ নিয়ে প্রায় সময় বাগবিতণ্ডা লাগছে ইজারাদারদের লোকজনের সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের। অন্যান্য বার হাটে হাটে হাসিল আদায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করলেও এবারে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, এবারে রংপুর জেলায় মোট পশুর হাট রয়েছে ৭৪টি। এর মধ্যে স্থায়ী হাট ২৩টি এবং অস্থায়ী হাট ৫১টি। এ ছাড়াও এবার রংপুর বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৪ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭টি। চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি পশু। ফলে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪১০টি গবাদিপশু।
প্রতিনিধি/এফএ