জেলা প্রতিনিধি
২৫ মে ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
ঈদ মানেই আনন্দ, মিলনমেলা ও ছুটির দিন। কিন্তু সব মানুষ একসঙ্গে এই আনন্দ ভোগ করতে পারেন না। সাংবাদিক, চিকিৎসক, নার্স, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী পেশার মানুষরা নিজেদের ঈদ উদযাপনের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে সাধারণ মানুষের আনন্দ নিশ্চিত করেন।
এসব পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব পেশার মানুষের ঈদ মানেই দায়িত্ব পালন। ঈদে ঘটে নানান ঘটনা ও আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই খবর দেশবাসীকে জানাতে দায়িত্বে থাকেন নিবেদিতপ্রাণ পেশার সাংবাদিকরা। সাধারণ মানুষ ছুটিতে থাকলেও সংবাদ কখনো ছুটি পায় না। দেশের কোথায় কী ঘটছে, তা জানার জন্য মানুষ সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করে। এজন্য সাংবাদিকদের ঈদের দিনেও ছুটি মেলে না।
অপরদিকে পুলিশের দায়িত্ব পালনই যেন ঈদের আনন্দ। ঈদের দিনও তাদের ডিউটি বন্ধ থাকে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক সময় ছুটি বাতিল করতে হয়। পুলিশ সদস্য জসীম বলেন, আমাদের আনন্দ আসে ধাপে ধাপে। কেউ আগে ছুটি পায়, কেউ পরে। তবে দেশের মানুষ শান্তিতে ঈদ পালন করলে সেটাকে নিজের ঈদ মনে করেন পুলিশ সদস্যরা। কারো রাস্তায় আবার কারো পুলিশ ফাঁড়িতে, তো কারো থানায় কাটে ঈদের সময়।

রোগীর সেবায় কাটে চিকিৎসক ও নার্সদের ঈদ। ঈদ ডাক্তারদের জন্য আনন্দ ও ব্যস্ততার মিশ্রণ। পরিবারকে সময় দিতে চাইলেও হাসপাতালে ও জরুরি সেবা চালু রাখতে গিয়ে দিতে হয় বিসর্জন। রোগীর সুস্থতা চিকিৎসকদের কাছে ঈদ আনন্দের সমান।
কোরবানির ঈদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয় অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায়। ঈদের ছুটিতেও তারা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে, যাতে অন্যরা পরিষ্কার শহরে ঈদ উদযাপন করতে পারে।

সমাজসেবক মনির হোসেন ও কলেজ শিক্ষক দুরুল হুদা বলেন, যদি ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন না করে, তবে আমরা শান্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারব না। তাদের অবদানকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।
কিছু মানুষ আবার এটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন। সেলিম রেজা বলেন, জরুরি সেবার কোনো ছুটি হয় না। ঈদে একদল ছুটিতে গেলে অন্যরা দায়িত্ব পালন করে। যারা ছুটিতে যায় না, তারা অতিরিক্ত ভাতা পান। এরপর সবাই ছুটি নিতে পারেন।

এভাবে দেশের শান্তি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতার পেছনে দায়িত্বশীলদের ত্যাগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারে। তাদের এ অবদান উৎসবের আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করে।
প্রতিনিধি/এসএস