images

সারাদেশ

‘৫ বছর ধরে সন্তানের মতোই আগলে রেখেছি রাজা মানিককে’

জেলা প্রতিনিধি

২৫ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খামারি মিনু সাহা প্রায় ৫ বছর ধরে পরম মমতায় লালন-পালন করেছেন প্রায় ৪৫ মণ ওজনের বিশাল ষাঁড় ‘রাজা মানিক’কে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো যত্ন করায় গরুটি তার ডাক ও ইশারা বুঝতে পারে। মিনু সাহার প্রতিদিনের সকাল শুরু হয় রাজা মানিকের জন্য খাবার প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে। কুঁড়ির ভাত, ভুট্টার গুঁড়ো, গমের ভুষি, খৈল, ঘাস, খড় ও ফলমূল এসব মানিকের নিত্য দিনের খাদ্য তালিকা।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মিনু সাহার খামারে বেড়ে ওঠা এই বিশাল ষাঁড়টির নাম রাজা মানিক। পাঁচ বছর ধরে আদর-যত্নে বড় করে তোলা গরুটি এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন, কেউ ছবি তুলছেন। তবে শুধু আকার নয়, গরুটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে দাঁত দেখাও বললে রাজা মানিক দাঁত বের করে দেয়। এতে দর্শনাথীরা আনন্দ পায়।

ac62030a-e0b6-4a29-9904-e886b1580188

কোরবানির ঈদ ঘিরে বিশালদেহী রাজা মানিককে দেখতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থী ও ক্রেতারা আসছেন। তাদের দাবি, গরুটি বিভাগের সবচেয়ে বড় গরু। মিনু সাহার ভাষ্যমতে, কেউ ৩৫ মণ, কেউ ৪৫ মণ, আবার কেউ ৪৮ মণ পর্যন্ত বলছেন। গরুটির ওজন প্রায় ৪৫ মণের কাছাকাছি বলে ধারণা তার।

খামারের মালিক মিনু সাহা জানান, এটি এটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন করছি। বাজারের কোনো ফিড বা ক্ষতিকর ওষুধ খাওয়াইনি। শুধু স্বাভাবিক খাবার দিয়েই বড় করেছি।

মিনু সাহা বলেন, গত বছর খুলনার এক ক্রেতার কাছে ১২ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় দালালচক্রের ষড়যন্ত্রে তা আর বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তারা সেসময় আমার গরু নিয়ে নানা অপপ্রচার চালায়।

তিনি জানান, প্রতিদিন গরুর পেছনে হাজার টাকা খরচ। গত বছর গরু বিক্রি করতে না পারায় এক বছর ধওে বাড়তি টাকা খরচ হয়েছে। বড় গরুর ক্রেতা কম। তবুও গত বছরের দাম পেলেও রাজা মানিককে বিক্রি করে দেবো।

সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীরা ফোনে গরুটির ভিডিও করছে, ছবি তুলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ করছে। মিনু সাহা ডাক দিলে গরুটিও দাঁত বের করে দিচ্ছে, দেখে দর্শনার্থীরা আনন্দ উপভোগ করছে।

93c6e594-248b-46e7-9365-ac934feffd12

যশোর থেকে আসা আনাস আব্দুল্লাহ বলেন, ফেসবুকে গরুটি দেখে এখানে এসেছি। এতো বড় গরু জীবনে কখনো দেখিনি। হাত দিয়ে ছুঁয়েও দেখেছি। খুব ভালো লাগছে।

মিনু সাহার ভাই বলেন, আকৃতির কারণে রাজা মানিককে হাটে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ ক্রেতারা বাড়িতে এসেই দেখে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ক্রেতা ঠিক হয়নি।

এতো বড় গরু দেখভালের বিষয় জানতে চাইলে মিনু সাহা জানান, একজন সহকারি আছে, সে খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য কাজে আমাকে সহযোগিতা করে। বিশালাকৃতির হওয়ায় অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।

ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার মন্ডল বলেন, গরুটি মোটাতাজা করণে কোনো ধরনের ক্ষতিকারণ মেডিসিন ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার তাকে খাওয়ানো হয়েছে। খুলনা বিভাগের মধ্যে রাজা মানিক সবচেয়ে বড় গরু। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় মিনু সাহার এই গরুটির তদারকি করেছি। আশা করছি, তিনি ভাল দামে বিক্রি করে লাভবান হবেন।

প্রতিনিধি/টিবি