images

সারাদেশ

স্বামীর সঙ্গে ফোনে কলহের পর প্রবাসীর স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি

২৩ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মোসা. ছালমা আরফিন (৩৬) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়াপ্রবাসী স্বামীর দেওয়া মানসিক চাপের কারণে তার মেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

শনিবার (২৩ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরঘূর্ণী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ছালমা আরফিন ওই গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী মো. বশির বেপারীর স্ত্রী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে ছালমা আরফিনের সঙ্গে প্রায় ৯-১০ বছর আগে দশমিনার বাসিন্দা বশির বেপারীর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বশির বেপারী মালয়েশিয়ায় থাকতেন এবং বছরে এক-দুইবার দেশে আসতেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় ২০ দিন আগে বশির বেপারী দেশে এসে আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। দেশে থাকাকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ হয়েছিল। আজ শনিবার সকালে মুঠোফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই ছালমা আরফিন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন।

নিহতের শাশুড়ি কদভানু জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি ছালমাকে ফোনে কথা বলতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর ছালমা নিজের পরনের কাপড়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি পানি ঢেলে তা নিভিয়ে দেন। পরে তিনি পুকুর থেকে কাজ সেরে ফিরে ছালমাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ছালমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের বাবা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী বিভিন্ন সময় ফোনে মানসিকভাবে চাপ দিত। কয়েক দিন আগে দেশে থাকাকালেও তাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছিল। হয়তো এসব কারণেই সে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/একেবি