জেলা প্রতিনিধি
২৩ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সরকারি চাকরির আশায় আপন চাচার হাতে ১৬ লাখ টাকা তুলে দিয়ে এখন উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার যুবক ফেরদৌস মোল্যা (৩২)। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও এর কোনো সমাধান মেলেনি। বরং পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে তিনি চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ফেরদৌস মোল্যা উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের নওখোলা গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে তিনি দীর্ঘদিন লোহাগড়া পৌরসভার কচুবাড়িয়া গ্রামে মামার বাড়িতে বড় হয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালে সংসদ সচিবালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন ফেরদৌসের মেজ চাচা আনছার উদ্দিন। তার মেয়ের পরিবারের কয়েকজন সদস্য সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি সহজে চাকরি দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন। সেই বিশ্বাসে ফেরদৌস চাচার হাতে ১৬ লাখ টাকা তুলে দেন। তবে চাকরি তো হয়নি-ই, উল্টো টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। ফেরদৌসের দাবি, পরে ৯ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকা চাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নানা টালবাহানা, ভয়ভীতি ও মামলা-মোকদ্দমা।
ফেরদৌস মোল্যা বলেন, ‘বাবা হারানোর পর চাচাকেই অভিভাবক ভেবে বিশ্বাস করেছিলাম। সরকারি চাকরির আশায় তার হাতে ১৬ লাখ টাকা তুলে দিই। কিন্তু চাকরি হয়নি, উল্টো এখন আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার নামে জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে ফরিদপুর আদালতেও মামলা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ গ্রামে যেতে পারেন না এবং পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টাও চলছে বলে জানান।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনছার উদ্দিন। তার দাবি, চাকরি দেওয়ার নামে কোনো টাকা তিনি নেননি। বরং জমি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি একজন কৃষক মানুষ। চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। ফেরদৌসের কাছ থেকে জমি কেনার জন্য তাকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন সে জমিও লিখে দিচ্ছে না, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এই টাকা ফেরত চেয়ে ফরিদপুর আদালতে মামলা করা হয়েছে।’
নড়াইলের বাসিন্দা হয়েও ফরিদপুরে মামলা করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, জমিটি তার মেয়ের নামে কেনার কথা ছিল, যার বিয়ে হয়েছে ফরিদপুরে। তাই মেয়ে সেখানে মামলা করেছে।
শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাবু মিয়া বলেন, ‘ফেরদৌস তার চাচার কাছে টাকা পাবেন এ কথা সত্য। আমরা দুইবার সালিশ করে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আনছার উদ্দিন তা মানেননি। শুনেছি টাকা ফেরত না দিতেই ফেরদৌসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/একেবি