২৩ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
ঈদুল আজহা মানেই ত্যাগের মহিমা, আনন্দ ভাগাভাগি আর নাড়ির টানে ঘরে ফেরা। বছরজুড়ে শহরের ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক জীবনে বন্দি মানুষ যখন কোরবানির ঈদের ছুটিতে গ্রামের পথে যাত্রা করে, তখন বদলে যায় পুরো গ্রামবাংলার চিত্র। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়া যেমন পরিবারের জন্য আনন্দের, তেমনি এই ঘরে ফেরাকে ঘিরে চাঙা হয়ে ওঠে গ্রামের অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা ও সামাজিক পরিবেশ।
কোরবানির ঈদ সামনে এলেই গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। শহর থেকে ফেরা মানুষের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে ব্যবসা-বাণিজ্য। কাপড়ের দোকান, কসমেটিকস, জুতার শোরুম ও মুদিদোকান থেকে শুরু করে কোরবানির পশুর হাট সবখানেই মানুষের ভিড় বাড়ছে। গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বছরের এই সময়টিকে সবচেয়ে লাভজনক মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করেন।
স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সারা বছর যা বিক্রি হয়, ঈদের আগের কয়েক দিনে তার চেয়েও বেশি বিক্রি হয়। শহর থেকে যাঁরা বাড়ি আসেন, তারা পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেন।’
কোরবানির ঈদকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি সরব হয়ে ওঠে পশুর হাট। স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে থেকেই গরু-ছাগল লালন-পালন করেন। এতে তারা বাড়তি আয়ের সুযোগ পান। গ্রামের বিভিন্ন হাটে দেশি গরুর চাহিদাও ব্যাপক। খামারি আব্দুল আব্বাস বলেন, ‘ঈদের সময় গরুর ভালো দাম পাওয়া যায়। সারা বছরের লাভের বড় অংশটাই আসে এই মৌসুমে।’
শুধু পশুর হাট নয়, গ্রামের কাঁচাবাজারেও কয়েক গুণ বেড়ে যায় বেচাকেনা। মাংস রান্নার মসলা, সেমাই, চিনি, দুধ, চাল ও তেলসহ নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে স্থানীয় কৃষক, ডেইরি খামারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে বাড়তি অর্থ আসে।
অন্যদিকে, ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের পরিবহন খাতেও ব্যস্ততার ছাপ পড়েছে। ভ্যানচালক, অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় বাসচালকদের আয় বেড়েছে কয়েক গুণ। আত্মীয়র বাড়ি যাওয়া, পশুর হাটে যাতায়াত ও বাজার করার কারণে গ্রামের রাস্তাঘাট সরগরম হয়ে উঠেছে।
কোরবানির ঈদের আনন্দ শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে। ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি, বাড়িতে বাড়িতে মাংস বিতরণ, সন্ধ্যায় বন্ধুদের আড্ডা আর শিশুদের নতুন পোশাকে দৌড়ঝাঁপ সব মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেক এলাকায় গ্রামীণ মেলা, ফুটবল টুর্নামেন্ট কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ‘সারা বছর শহরে থাকি। কোরবানির ঈদে গ্রামে ফিরলে মনে হয় জীবনের আসল শান্তি এখানেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াই সবচেয়ে বড় আনন্দ।’

সেতাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্যসচিব মো. শামসুল আলম বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে শহর থেকে গ্রামে অর্থের প্রবাহ বাড়ে। মানুষ পশু কেনা, ঘর মেরামত, কেনাকাটা ও সামাজিক আয়োজনে অর্থ ব্যয় করে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সাময়িকভাবে হলেও অনেক গতিশীল হয়ে ওঠে।’
প্রতিনিধি/একেবি