images

সারাদেশ

বান্দরবানে আশানুরূপ হোটেল বুকিং হয়নি, হতাশ ব্যবসায়ীরা

২৩ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহা ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি উপলক্ষে পর্যটন নগরী বান্দরবানে এবার আশানুরূপ হোটেল বুকিং হয়নি। পর্যটক কম থাকায় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদুল আজহার পরের দিনগুলোতে ছুটি কম থাকায় পর্যটকদের অনাগ্রহের কারণেই বুকিং প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। তবে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দিনগুলোতে ৭০-৮০ শতাংশ বুকিং পাওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়েই কম-বেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে পাহাড়কন্যা বান্দরবান। বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সমাগম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। পর্যটকদের সেবায় জেলায় গড়ে উঠেছে শতাধিক হোটেল, মোটেল, কটেজ ও রিসোর্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। ফলে জেলার অন্যতম অর্থনৈতিক খাত হিসেবে পর্যটন শিল্পকে গণ্য করা হয়। এবার ঈদুল আজহার আগে ছুটির দিন বেশি এবং পরে ছুটি কম হওয়ায় আশানুরূপ বুকিং হয়নি বলে তাদের দাবি।

হোটেল হিলটনের ব্যবস্থাপক জোবায়ের সাকি বলেন, আজ তাদের হোটেলে ২০ শতাংশ পর্যটক রয়েছেন। ঈদ-পরবর্তী ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দিনগুলোর জন্য ৫০ শতাংশ আগাম বুকিং হয়েছে।

হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ব্যবস্থাপক আক্কাস উদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, আজ তাদের হোটেলের ২০ শতাংশ কক্ষে অতিথি রয়েছেন। বিগত বছরগুলোর এই সময়ে আশানুরূপ বুকিং হলেও এবার তেমন সাড়া মেলেনি। তবে ২৯ থেকে ৩১ মে’র জন্য ৫০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। বাকি দিনগুলোতে বুকিং আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

হোটেল গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক মো. আরমান বলেন, বর্তমানে তাদের হোটেলে ২০ শতাংশের মতো বুকিং রয়েছে। তবে ঈদ-পরবর্তী ২৯ থেকে ৩১ মে’র জন্য ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

হোটেল হিল ভিউয়ের ব্যবস্থাপক মো. পারভেজ বলেন, অন্যান্য বছরের এই সময়ে তাদের হোটেলের ৯০টি কক্ষের অধিকাংশ বুকিং থাকত। এবার আজ মাত্র ১২টি কক্ষ বুকিং হয়েছে। ঈদের আগের দিনগুলোতেও তেমন বুকিং নেই। তবে ঈদ-পরবর্তী ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত গড়ে ২৫ শতাংশ আগাম বুকিং পেয়েছেন।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বলেন, এবারের ঈদুল আজহা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে যে সরকারি ছুটি পাওয়া গেছে, তার অধিকাংশ ঈদের আগে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে ছুটি কম থাকায় পর্যটকদের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ঈদের পরের কয়েক দিনে ভালো সাড়া পাবেন বলে আশা করছেন। আগত পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে সব হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

bandarban

বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন কয়েক গুণ বেশি থাকে। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে। এছাড়া সাদা পোশাকেও সব পর্যটন কেন্দ্রে পুলিশের নজরদারি থাকবে।

প্রতিনিধি/একেবি