জেলা প্রতিনিধি
২৩ মে ২০২৬, ০৬:১৫ এএম
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫)। গত ১৮ মে ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পরিবার। শুক্রবার (২২ মে) তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জাহাঙ্গীর করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি আড়াই বছর বয়সী এক সন্তানের বাবা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
এর আগে গত ২ মে একই উপজেলার মাঝিরকোনা গ্রামের রিয়াদ রশিদ নামের আরেক যুবক রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত হন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে জমি বন্ধক রেখে ও ধারদেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা জোগাড় করেন জাহাঙ্গীরের মা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বৈধভাবে রাশিয়ায় যান জাহাঙ্গীর। সেখানে গিয়ে একটি খামারে প্রায় এক মাস কাজও করেন।
পরে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালাল চক্র তাঁকে প্রশিক্ষণে পাঠায়। পরিবারের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।
স্বজনেরা জানান, গত ১৮ মে রাশিয়া–ইউক্রেন সীমান্তের ইউক্রেন অংশে মাইন বিস্ফোরণে জাহাঙ্গীরসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হন। শুক্রবার খবরটি বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।
ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে জাহাঙ্গীরের মা জাকিয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে হোটেলে কাজ করার কথা বলে রাশিয়া গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে। জিম্মি করে তাকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়। আমরা সরকারের কাছে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।’
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাসুকা হোসেন স্বামীর মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি নিহতের বাড়িতে যান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআই